গণপরিবহণে প্রত্যেক রুটের বাস মালিকদের নিয়ে কোম্পানি গঠন করা হবে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট বাস, একই কালারের, নির্দিষ্ট মানের, ফিটনেস রেখে, ফ্যাসিলিটিজ রেখে চালাতে হবে। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, সেক্ষেত্রে আমরা ই-ভেহিকেলকে উৎসাহিত করছি, ইলেকট্রিক ভেহিকেল। তো এই কাজ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। মালিকরা কোন রুটে কোন কোম্পানি করবে, সে ব্যাপারেও তারা কিন্তু কাজ করছে। তো আমরা চাচ্ছি যে, বাস ব্যবস্থাপনা এবং চলাচলের ক্ষেত্রে একটা শৃঙ্খলা আনতে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে রুট, তৃতীয়ত হচ্ছে আপনার ট্রাফিক সিগন্যাল অথবা নির্দিষ্ট টার্মিনালে থামবে এবং নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকে উঠবে এই ব্যবস্থাপনাটা।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। একটা নগরীতে এরকম চলে না। ধরেন রেল আছে, মেট্রোরেল আছে, মনোরেল আছে, বাস আছে এইটাই হলো বেসিক। আর ব্যক্তিগত গাড়ি আছে। আমরা ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি যে, বাস ব্যক্তি মালিকানায় একই রুটে, দুই-চার-দশজন মালিকের বাস বিচ্ছিন্নভাবে চলবে না। যেটা প্রতিযোগিতা হয়, কেউ টার্মিনালে থামে না, টার্মিনালও নির্দিষ্ট না, লোক যেখানে হাত তোলে সেখানে থামিয়ে দেয়। এই পদ্ধতিতে আমরা বাস আর চালাব না।
ঢাকার ভিতরে যত্রতত্র গড়ে ওঠা বাস কাউন্টার ঈদের এক এক-দেড় মাস আগে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরবর্তী সময়ে মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, সিটি কর্পোরেশন, মেট্রোপলিটন পুলিশ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, আমার মন্ত্রণালয়ে আমরা বসেছি। বসে আমরা তিন মাসের জন্য একটা সময় নির্ধারণ করেছিলাম। ঈদের আগে অথবা এই মুহূর্তে, আপনি যেভাবেই বলেন না কেন, এই রাস্তার পাশে যে কাউন্টারগুলি আছে, সেটা হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে যাত্রী দুর্ভোগ হবে। কারণ যাত্রীরা এখানেই এসে, এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি বাস টার্মিনালগুলোতে সারাদিন বাস থাকে। ওখানে ওয়ার্কশপ হয়ে গিয়েছে। একটি বাস আট-দশ দিন ধরে ওখানে রং করছে, ডেন্ট করছে, ইঞ্জিন ডাউন দিয়ে আবার সেটা রিসেট করছে এরকম চলছে। এটা ওখানে চলবে না। আমরা ডিপো করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি, একটা ৩০০ ফিটে। একটা হচ্ছে কাঁচপুরে। কাঁচপুরে যেটা আমরা ডিপো করছি, সেটা টার্মিনালই হয়ে যাবে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল আস্তে আস্তে কাঁচপুরে চলে যাবে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনালটা চলে যাবে কেরানীগঞ্জে, জেলখানার ঠিক অপজিটে। গাবতলীটা চলে যাবে হেমায়েতপুরে।
তিনি বলেন, এ করকমভাবে টার্মিনাল শিফট হবে, কিন্তু এখনই হচ্ছে না। এখন ডিপো হিসেবে ওখানে ব্যবহার হবে। আর এখান থেকে গাড়ি ছাড়বে, কিন্তু গাড়িগুলো (টার্মিনালে) আসবে আবার কখন? গাড়ি ছাড়ার যে সময় আছে, তার আগে আসবে। আসবে এবং গাড়ি এখান থেকে ছেড়ে যাবে।
বিএসআরএফ’র সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপ সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
