পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় গত ডিসেম্বরে লিওনেল মেসির সফর ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনায় সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে কলকাতায় বিধাননগর পুলিশের কাছে ইমেইল পাঠিয়েছেন মেসির টিমের পরামর্শদাতা। তিনি কলকাতায় মেসির অনুষ্ঠানে গত ডিসেম্বরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশৃঙ্খলার জন্য সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাসকেই দায়ী করেছেন। মেসির সেই অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন, মেসির টিম থেকে পাঠানো ইমেইলে অভিযোগ করেছেন, অরুপ বিশ্বাস মাঠে ঢোকার পরই গণ্ডগোল শুরু হয়। তিনি যা করেছিলেন তার পূর্ব নির্ধারিত সূচিতে ছিল না।
সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী বার বার মেসিকে স্পর্শ করছিলেন। মেসির কোমড়ে ও কাঁধে হাত দিয়ে ছবি তুলছিলেন। সেই সময় মাঠে তিনজন ফটোগ্রাফার থাকার কথা থাকলেও মন্ত্রী ৪০ জনকে নিয়ে ঢুকেছিলেন। মাঠে এত ভিড় দেখে মেসি বিরক্ত হন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকজন মেসিকে নিয়ে বেরিয়ে যান। এফআইআর রুজু করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। অরূপের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিন্ন উদ্দেশ্য ৩(৫), তোলাবাজি ৩০৮(২), প্রতারণা ৩১৮(৪), অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন ৩৫১(২) এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ৬১(২) ধারায় এফআইআর রুজু করা হয়েছে।
গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে অনুষ্ঠানের আগে মেসির সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্তর কাছে প্রচুর টিকিট দাবি করেছিলেন অরূপ। তার কথা অমান্য করলে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেয়ার হুমকিও দেন তিনি। শতদ্রুর থেকে ২২ হাজার ‘কমপ্লিমেন্টারি’ টিকিট নেয়ার অভিযোগও উঠেছে অরূপের বিরুদ্ধে। সেই টিকিটগুলি পরে কালোবাজারি করা হয় বলে অভিযোগ। মেসির অনুষ্ঠানকে ঘিরে যে ভিড় তৈরি হয়েছিল, সেখানে ছিলেন মূলত উদ্যোক্তা, নেতা, মন্ত্রী এবং তাদের ঘনিষ্ঠজনরা। অভিযোগ, মেসির গায়ে কার্যত লেপ্টে ছিলেন অরূপ।
গত ১৯ মে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাস, জুঁই বিশ্বাস, আইএএস আধিকারিক শান্তনু বসু, রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শতদ্রু। তার দাবি, অরূপ সহ কয়েক জন ব্যক্তির ভুলের জন্য পুরো অনুষ্ঠানটি ‘পণ্ড’ হয়েছে। অনেকেই অনুমতি ছাড়াই মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। যার জেরে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। প্রভাবশালীদের ভিড়ে একসময় মাঠে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে গিয়েছিল। মেসির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের পেটে কারও কনুইয়ের গুঁতো লাগে। কারও নখের আঁচড়ে ছড়ে যায় রদ্রিগো ডি’পলের হাত।
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মেসির নিরাপত্তারক্ষীরাই তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। তার পরে শুরু হয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তাণ্ডব। ক্ষুব্ধ দর্শকরা মাঠে ঢুকে পড়েন। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ওই ঘটনা নিয়ে দু’টি পৃথক মামলা হয়। প্রথম মামলায় শতদ্রুকে গ্রেফতার করা হয়। দ্বিতীয় মামলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অরুপ বর্তমানে আদালতের রক্ষাকবচ নিয়ে গ্রেফতার এড়িয়েছেন। তবে শতদ্রু এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছেন।
