ইংল্যান্ড আর ক্রোয়েশিয়া। দুই শেয়ানের ফুটবল যুদ্ধ। ডালাসের স্টেডিয়ামে যখন দুই দলের খেলোয়াড়রা গোলের নেশায় পাগলপারা, তখন গ্যালারিতে গ্লামার ছড়াচ্ছিলেন ইংল্যান্ড ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও প্রেমিকারা। তাদেরকে সাধারণভাবে ইংরেজিতে ‘ওয়াগস’ (বা ডব্লিউএজিড) বলা হয়। যখন তারা দেখেন ‘থ্রি লায়ন্স’রা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে রোমাঞ্চকর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে, তখন গ্যালারি থেকে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। ম্যাচের শুরুটা ইংল্যান্ডের জন্য ছিল দারুণ ইতিবাচক। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন হ্যারি কেন। তবে ক্রোয়েশিয়া দ্রুতই সমতা ফিরিয়ে আনে, যা থ্রি লায়ন্স সমর্থকদের হতাশ করে। এরপর হ্যারি কেন আবারও জালে বল জড়ান। কিন্তু বলকান দেশটি আবারও সমতা ফিরিয়ে আনে।
দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড যেন নতুন উদ্যমে মাঠে নামে। বিরতির পরপরই জুড বেলিংহ্যাম গোল করে ইংল্যান্ডকে আবারও এগিয়ে দেন। তৃতীয়বার বল জালে জড়ানোর পর জর্ডান পিকফোর্ডের স্ত্রী মেগান পিকফোর্ডকে গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে মার্কাস রাশফোর্ড চতুর্থ গোল করে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন। ফলে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে থ্রি লায়ন্স দারুণ সূচনা পায়।

মাঠে খেলোয়াড়রা জয় উদযাপন করলেও, গ্যালারিতে বসে তাদের সমর্থন জুগিয়েছেন স্ত্রী ও প্রেমিকারা। আরলিংটনের স্ট্যান্ডে বসে মেগান হাততালি দিচ্ছিলেন। অন্যদিকে কয়েকজন ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করে দেখিয়েছেন, টেক্সাসের তীব্র গরমে তাদের স্বামী ও প্রেমিকরা মাঠে লড়াই করছেন, আর তারা বিরতিতে ঠান্ডা পানীয় পান করে নিজেকে সতেজ রাখছেন। ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড অলি ওয়াটকিন্সের ইনফ্লুয়েন্সার স্ত্রী এলি অ্যাল্ডারসন লাল রঙের নিচু গলার থ্রি লায়ন্স জার্সি পরে এক বান্ধবীর সঙ্গে ছবি তোলেন। তার হাতে ছিল লম্বা এক গ্লাস পানীয়।
জুড বেলিংহ্যামের প্রেমিকা অ্যাশলিন ক্যাস্ত্রোকেও দুই হাতে দুটি পানীয় নিয়ে নিজের আসনের দিকে যেতে দেখা যায়। তিনি ক্যামোফ্লাজ নকশার স্কার্ট এবং ইংল্যান্ডের জার্সি পরেন। তার লম্বা কালো চুল কাঁধ বেয়ে নেমে এসেছিল এবং হালকা প্রসাধনে তিনি স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণীয় দেখাচ্ছিলেন। অন্যদিকে মেগান পিকফোর্ড যেন ডালাসের স্থানীয় ফ্যাশনকেই বেছে নিয়েছিলেন। তিনি ডেনিমের কাউবয় হ্যাট পরেন, যার মাঝখানে তার স্বামী জর্ডান পিকফোর্ডের জার্সি নম্বর লেখা ছিল। তার লম্বা স্বর্ণালী চুল কাঁধে ছড়িয়ে ছিল। তিনি সাদা রঙের একটি সাধারণ ভেস্ট, ডেনিম প্যান্ট এবং বাদামি রঙের সানগ্লাস পরেন। হাতেও ছিল পানীয়।
মজার বিষয় হলো, বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে মেগান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তার লাগেজ হারিয়ে যাওয়ায় তিনি শেষ মুহূর্তে পোশাক সংকটে পড়েছেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি ভক্তদের বলেন, প্রয়োজনে তিনি তার সাত বছর বয়সী ছেলে আরলোর ইংল্যান্ডের জার্সি ধার নিয়ে ম্যাচ দেখতে যেতে পারেন। তবে পরে এলি অ্যাল্ডারসনের সঙ্গে একটি হাস্যরসাত্মক ভিডিও ধারণ করার সময় দেখা যায়, তিনি সাদা রঙের একটি পোশাক পরে নিয়েছেন। ফরোয়ার্ড অলি ওয়াটকিন্সের সঙ্গিনী এলি অ্যাল্ডারসন টুর্নামেন্টে নিজের সঙ্গীকে সমর্থন জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন। নিচু গলার ইংল্যান্ড জার্সি ও হাই হিল জুতা পরে তিনি এবং মেগান পিকফোর্ড হোটেল থেকে বেরিয়ে আসেন আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে।

অন্যান্য অনেক ওয়াগসের মতো তিন সন্তানের মা এলিও তার কিছু বিলাসবহুল ফ্যাশন সামগ্রী সঙ্গে এনেছিলেন। তার হোটেল কক্ষের বিছানার ওপর রাখা ছোট আকারের একটি বারকিন ব্যাগও ছবিতে দেখা যায়। তিনি ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, আমেরিকায় পৌঁছেছি। কিন্তু আমার স্যুটকেস পৌঁছায়নি। আজকের ম্যাচে কি আমি আমার সাত বছরের ছেলের জার্সি পরে যেতে পারি, নাকি পারি না?
মেগান টিকটকেও একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, আমার জীবনের শীর্ষ পাঁচটি ভয়ংকর অভিজ্ঞতার একটি...বিশ্বকাপ দেখতে আমেরিকায় এসেছি। কিন্তু আমার স্যুটকেস আসেনি। এখন আমাকে আমার সাত বছরের ছেলের জার্সি ভাগাভাগি করে পরতে হচ্ছে। আজ রাতে আমার স্বামীর ম্যাচ। বিমান সংস্থা এখনও জানায়নি, কবে আমার লাগেজ পৌঁছাবে।

ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয় মেগানকে অন্যান্য ওয়াগসদের মধ্যে অনেকেই ‘মাদার হেন’ বা অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখেন। ম্যাচের আগে বিভিন্ন পার্টি আয়োজন করাসহ অনেক বিষয়ে তিনি নেতৃত্ব দেন। তিনি মজা করে বলেন, আমি ডালাসে আছি। ট্যাক্সিচালককে জিজ্ঞেস করলাম কোথা থেকে জিন্স কিনতে পারি। তিনি বললেন, বিল’স বুটস বা টিজে ম্যাক্সে যেতে পারি।
এ সময় এলি তাকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, এটা সত্যিই আমার সবচেয়ে খারাপ দুঃস্বপ্ন। তবে চিন্তা কোরো না, আমার তিনটা স্যুটকেস ভর্তি জিনিস আছে। আমি উদ্ধার করতে আসছি।
এদিকে হ্যারি কেনের স্ত্রী কেট কেন বিমানবন্দরের ব্যাগ সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে ২ হাজার পাউন্ড মূল্যের একটি শ্যানেল ক্রসবডি ফোন-কেস ব্যাগ ব্যবহার করেন। ম্যাচের আগে তিনি ডেনিম পোশাক পরে নিজের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। বুকায়ো সাকার বাগদত্তা টোলামি বেনসনও বিশ্বকাপের ফ্যাশন প্রদর্শনীতে অংশ নেন। তিনি ডাবল ডেনিম পোশাক পরেন, যার সঙ্গে লাল রঙের মোবাইল কভার, টুপি এবং সরু কোমরের বেল্ট ছিল। জন স্টোনসের আকর্ষণীয় স্ত্রী অলিভিয়া ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, হাফটাইম শোর জন্য প্রস্তুত। তিনি লাল রঙের থ্রি লায়ন্স জার্সি ও ছোট বেইজ রঙের ক্লাচ ব্যাগ বহন করছিলেন। তবে ডালাসের কাউবয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি গাঢ় নীল ডেনিম শর্টস ও বাদামি কাউবয় বুট পরেন। তার লম্বা বাদামি চুল কাঁধ বেয়ে নেমে এসেছিল এবং সরু ডিজাইনের সানগ্লাস দিয়ে তিনি নিজের সাজ সম্পূর্ণ করেন।
