প্রথম আলো
‘গরম বাড়লেই গ্রামে বাড়তি লোডশেডিং’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, গরম বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু উৎপাদন বাড়েনি। উল্টো তিনটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি আরও বেড়েছে। এর প্রায় পুরো চাপ পড়ছে গ্রামাঞ্চলে। কোনো কোনো এলাকায় দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টা, কোথাও আরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। টিভিতে ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখতে না পেরে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন অনেকে।
বিদ্যুৎ খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দফায় দফায় দাম বাড়লেও গত কয়েক বছর গরমের সময় লোডশেডিং কমছে না। চলতি মাসেও বিদ্যুতের সর্বোচ্চ দাম বাড়ানো হয়েছে। অথচ গত কয়েক দিনে দেশে দিনে গড়ে সর্বোচ্চ তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে। গতকাল দিনের বেলায়ও সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল প্রায় ২ হাজার ৬২৯ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিবি) ও বিতরণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎঘাটতি সামাল দিতে মূলত ঢাকার বাইরের এলাকায় লোডশেডিং করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) গ্রাহকদের ওপর। সংস্থাটি ৮০টি সমিতির মাধ্যমে দেশের অধিকাংশ গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
পিডিবি ও আরইবি সূত্র বলছে, সারা দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে মঙ্গলবার রাত ১২টায় ৩ হাজার ২৭৫ মেগাওয়াট। একই সময় আরইবির লোডশেডিং ২ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট।
পিডিবি ও পিজিবির হিসাবে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও কয়েক দিন ধরে সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না। দিনের বেশির ভাগ সময় উৎপাদন থাকছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে, অথচ চাহিদা ছাড়িয়ে যাচ্ছে সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। বকেয়া বিল, জ্বালানিসংকট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক অব্যবহৃত থাকছে।
বকেয়া বিল ও জ্বালানিসংকট
সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ কেনে পিডিবি। তবে কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রগুলোর বিল নিয়মিত পরিশোধ করতে পারছে না সংস্থাটি। বর্তমানে পিডিবির বকেয়া প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। সংস্থাটির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ায় নতুন করে বকেয়া জমা কমতে পারে, তবে পুরোনো পাওনা পরিশোধে সময় লাগবে।
গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় গ্যাসচালিত কেন্দ্রগুলো থেকেও উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। গত ২০ মে দেশে রেকর্ড ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কয়লা থেকে এসেছিল ৬ হাজার ৮১ মেগাওয়াট। এখন তা কমে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটে নেমেছে।
প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বিল বকেয়া থাকায় প্রয়োজনীয় কয়লা কিনতে পারছে না চট্টগ্রামের বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্র। এক সপ্তাহ ধরে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমেছে ৬০০ মেগাওয়াট। কারিগরি ত্রুটিতে বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ায় আরও ৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন কমেছে। ইউনিটটি চালু হতে এক সপ্তাহ লাগতে পারে। একই ধরনের সমস্যায় বন্ধ হওয়া পটুয়াখালীর আরএনপিএল-নরিনকো কেন্দ্রের একটি ইউনিট মঙ্গলবার চালু হয়েছে; সেখান থেকে ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।
জ্বালানি তেলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকেও সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করা হচ্ছে না। এসব কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ চাহিদার সময় সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করা হলেও দিনের অধিকাংশ সময় উৎপাদন থাকে এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট। কেন্দ্রগুলোর পাওনা প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। বকেয়ার পাশাপাশি তেলে উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় পিডিবিও এসব কেন্দ্র সীমিত সময় চালাতে চায়।
নিজস্ব কয়লায় পরিচালিত দেশের একমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্র দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়াতেও সক্ষমতার তুলনায় উৎপাদন খুব কম। তিনটি ইউনিটের মোট সক্ষমতা ৪৫০ মেগাওয়াট হলেও কয়লা মজুত থাকার পরও কেন্দ্রটি গড়ে মাত্র ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব হবে। পটুয়াখালীর একটি কেন্দ্র থেকে কয়লা এনে বাঁশখালীর বন্ধ ইউনিট চালুর চেষ্টা চলছে। রামপালের ইউনিটটিও চালু হলে সরবরাহ কিছুটা বাড়বে।
বিশ্বকাপ দেখতে না পারায় ক্ষোভ
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের গোরকপুর গ্রামের জাকিরুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ মাঝেমধ্যে আসে, আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা থাকার পর আবার চলে যায়। তাই তাঁকে মুঠোফোনে খেলা দেখতে হচ্ছে। নেত্রকোনার রাসেল আহমেদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। একই জেলার খালিয়াজুরি উপজেলার পুরানহাটি গ্রামের শামছুর রহমানের প্রত্যাশা, অন্তত বিশ্বকাপের খেলা চলার সময় যেন বিদ্যুৎ থাকে।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন গতকাল বিকেলে জানান, তাঁদের এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ১০৪ মেগাওয়াট, সরবরাহ পাওয়া গেছে ৫৪ মেগাওয়াট। এ কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (কারিগরি) সীমা রানী কুণ্ডুর ভাষ্য, সেখানে চাহিদার তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে।
বিশ্বকাপ খেলা দেখতে জেলার কাহারোল উপজেলার বলরামপুর যুব উন্নয়ন সমিতি চাঁদা তুলে ধারদেনা করে টিভি কিনেছিল। সমিতির সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, এখন বিদ্যুৎ না থাকায় খেলা দেখা যাচ্ছে না।
লোডশেডিং বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে আনন্দকে অনেকটা ম্লান করে দিয়েছে বলে জানান জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ বাবু মিয়া। তিনি বলেন, খেলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিদ্যুৎ চলে যায়, আবার বিদ্যুৎ ফিরে আসতে আসতে ম্যাচ শেষ হয়ে যায়।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. রাসেল মিয়া বলেন, চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎও পাওয়া যাচ্ছে না। নিরুপায় হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘রিজার্ভ চুরির অভিযোগপত্রে ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় এক দশকের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেড়শ পৃষ্ঠার এই অভিযোগপত্র সম্প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করে আইনি পরামর্শ চেয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় করা অভিযোগপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ বাংলাদেশের ১০ জনের নাম রয়েছে। সবমিলিয়ে ভারত, শ্রীলংকা ও চীনের নাগরিকসহ দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছে। বুধবার সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এত বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আতিউর রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি এখন পলাতক।
গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মামলার তদন্ত করছেন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন। তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে আইনি পরামর্শ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ১০১ মিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ চুরির এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ছাড়াও সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা, সাবেক নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান, উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদার নাম রয়েছে। অভিযুক্তের তালিকায় আরও তিন বাংলাদেশির নাম উঠে এসেছে। তারা হচ্ছেন-কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, রেজাউল করিম ও মো. সুলতান মাসুদ আহমেদ। শেষ তিনজনের পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এই কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ভারতীয়দের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন আইটি উপদেষ্টা রাকেশ আস্থানার নাম আছে। প্রসঙ্গত রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর মূল হোতা এই রাকেশ আস্থানাকে প্রধান করে একটি ফরেনসিক অডিট হয়। অভিযোগ রয়েছে-ওই অডিটের সময় বেশির ভাগ আলামত মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। এছাড়া হ্যাকিংয়ে সহায়তা, মানি লন্ডারিং ও চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে ভারতীয় নাগরিক প্রীতম রেড্ডি, সুধীন্দ্রআথ্রেশ, নীলভান্নান ও মাদুক্কুর আনন্দনের বিরুদ্ধে। খসড়া অভিযোগপত্রে চিহ্নিত উত্তর কোরিয়ার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন-ল্যাজারাস গ্রুপ, পার্ক জিন হিয়োক। অভিযোগপত্রে গাও শুহুয়াসহ দুজন চীনা নাগরিকের নামও উঠে এসেছে। জাপানের সাসাকি নামের এক ব্যক্তি এই তালিকায় রয়েছে। রিজার্ভ চুরির একটি অংশ শ্রীলংকায় নেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় দেশটির হেগোডা গামাগে শ্যালিকা পেরেরাসহ ৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছে। ১১ বছর আগের এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্তের মধ্যে আরও রয়েছে- সোলেয়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনো ও কাম সিন অংসহ ৩৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এছাড়া নর্থ কোরিয়ার দুই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চুরির ঘটনায় দায়ী করা হয়েছে।
কালের কণ্ঠ
‘ডিজিটাল আসক্তিতে ধ্বংসের মুখে শিক্ষার্থী’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনার কোমলমতি শিশুরা এখন বড় ধরনের ঝুঁকিতে। তাদের নিয়ে মা-বাবার চোখে-মুখে যে আশা-জাগানিয়া স্বপ্নের বসবাস, সেখানে এখন শঙ্কার কালো মেঘ।
রাত জেগে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করা এখন দেশের কিশোর-কিশোরীদের একটি অংশের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমের আসক্তি তাদের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে, পড়াশোনায় মনোযোগ কমাচ্ছে, আর বাড়িয়ে দিচ্ছে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, স্পেন, নরওয়ের মতো উন্নত দেশগুলো যখন ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল আসক্তি থেকে রক্ষার চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে এখনো তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।
২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৩৪ শতাংশ। সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, এরপর ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম। এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি তরুণদের মধ্যে।
মনোযোগ ও পারিবারিক সম্পর্ক ধ্বংস করছে: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপপ্রয়োগ এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে লাগামহীন ‘স্ক্রিনটাইম’ বৃদ্ধি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক মানসিক ও শারীরিক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব।
তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, “যেকোনো নেশার মতো ইন্টারনেট আসক্তিও মস্তিষ্কে ডোপামিনের ক্ষরণ বাড়িয়ে মানুষের মনোযোগ ও স্বাভাবিক স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে দেয়। অতিরিক্ত স্ক্রিননির্ভরতার কারণে শিশুদের কল্পনাশক্তি লোপ পাচ্ছে। আসক্ত ছেলেমেয়েরা বাস্তব জগৎ ছেড়ে এক কাল্পনিক ‘ফ্যান্টাসি’র মধ্যে বাস করছে।”
তিনি জানান, এই ব্যাধিতে আক্রান্ত কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অন্ধকার ঘরে একা থাকা, ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া না করা, গোসল বা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতায় অনীহার পাশাপাশি চোখের ‘ড্রাই আই’ রোগ দেখা দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হচ্ছে পারিবারিক সম্পর্কে; সন্তানরা মা-বাবার কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে অবিলম্বে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
‘ডিজিটাল আসক্তি’ ভবিষ্যতের জন্য হুমকি: মাদকাসক্তির মতোই এই ‘ডিজিটাল আসক্তি’ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে উদ্বেগ জানিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উন্মুক্ত এই প্ল্যাটফর্মের ইতিবাচক দিক থাকলেও বর্তমানে এর নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব তরুণ প্রজন্মের চিন্তা করার ক্ষমতা, মননশীলতা ও সৃজনশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তথ্যবিনিময় বা মেধার স্বীকৃতির উদ্দেশ্যে এটি তৈরি হলেও রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক বা নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভাবে এটি এখন এমন এক খোলা ময়দানে পরিণত হয়েছে, যা পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক মূল্যবোধকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘অর্থাভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ ৭৮ শতাংশ কমেছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারিভাবে বিতরণ করা জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পাঁচ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণের সরবরাহ প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে গেছে। দেড় বছর ধরে এমন সংকট চলছে। দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর জন্মহার বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
পরিবার পরিকল্পনাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন সহযোগীরা বলছেন, অর্থ সংকট, ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা এবং বাজেট বাস্তবায়নের জটিলতার কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পর্যায় থেকে চাহিদা দিলেও অর্থাভাবে ব্যবস্থা নিতে পারেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার কমে যাওয়া এবং প্রজনন হার বাড়ার ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপরিকল্পিত গর্ভধারণ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে জনসংখ্যা বাড়ার হার, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি এবং ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণের সংখ্যা বাড়বে। একই সঙ্গে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর তুলনায় নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়ে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের গত রোববার বিকেলের তথ্য বলছে, দেশের ৩৭৮ উপজেলায় কনডম নেই। ৩৬৭ উপজেলায় ওরাল পিলের মজুত শেষ। জরুরি জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি (ইসিপি) নেই ৪১৮ উপজেলায়। তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি সুরক্ষাদানকারী ইমপ্লান্ট নেই ৩১১ উপজেলায় এবং ১০ বছর কার্যকর আইইউডি নেই ৩৯৭ উপজেলায়। ইনজেক্টেবল জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মজুতও শেষ হয়ে গেছে ৪৭৭ উপজেলায়। শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ নয়, মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় মিসোপ্রোস্টল, অক্সিটোসিন, আয়রন-ফলিক এসিড ম্যাগনেসিয়াম সালফেটের মতো ওষুধও অধিকাংশ উপজেলায় এখন মজুতশূন্য।
ইত্তেফাক
‘মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল গঠনে নীতিগত অনুমোদন সরকারের’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে প্রথম বারের মতো দুটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দরের কাছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় এ দুটি অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপন সংক্রান্ত কমিটি কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) কর্তৃক সুপারিশকৃত অংশ নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানান, দেশের অর্থনীতিতে গতি আনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বন্দরভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর লক্ষ্যেই মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে দুটি স্থানে মোট প্রায় ৬০০ একর জমিতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে মাতারবাড়ি এলাকায় প্রায় ৩০০ একর জমিতে একটি অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। অন্যটি, চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি এলাকায় স্থাপন করা হবে। এদিকে গতকাল বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানিয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে দেশে একটি আধুনিক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে বেজা। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ১০টি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল পরিচালনা ব্যবস্থা, আইন, নীতিমালা, প্রণোদনা কাঠামো এবং পরিচালন মডেল পর্যালোচনা করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রণয়ন করে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অবকাঠামোগত সুবিধা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংযোগ, লজিস্টিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যত্ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা বিবেচনায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী আনোয়ারা এলাকাকে দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
গতকাল মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বর্তমানে বিষয়টি ধারণাগত (কনসেপ্ট) পর্যায়ে রয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং নীতিগতভাবে ইতিবাচক মত দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা, বিনিয়োগ কাঠামো ও পরিচালন পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কাস্টমস ও কর-সংক্রান্ত অনেক বিধিনিষেধ শিথিল বা অনুপস্থিত থাকে। এতে বিদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা সহজে বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারেন।
তিনি আরো বলেন, বিদেশ থেকে আসা জাহাজগুলো এসব অঞ্চলে পণ্য খালাস, বিক্রি বা পুনঃরপ্তানির সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারাও এখান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সহজে পণ্য সরবরাহ করতে পারবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মতে, এ ধরনের অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, ভলিউম অব ইকোনমিক অ্যাক্টিভিটি বাড়বে, জিডিপিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, বন্দরের ব্যবহার বাড়বে, জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পাবে এবং পণ্য ও সেবার দ্রুত স্থানান্তর সম্ভব হবে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘আতিউরসহ অভিযুক্ত ৬৪ জন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বহুল আলোচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দেশী-বিদেশী মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার এই খসড়া অভিযোগপত্রটি চূড়ান্ত আইনি পরামর্শের জন্য ইতোমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযুক্ত তালিকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে বাংলাদেশের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দেশের ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রয়েছেন। খসড়া চার্জশিটের অন্য আসামিরা হলেন- আনিস এ খান, কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, শুভঙ্কর সাহা, রেজাউল করিম, জোবায়ের বিন হুদা, এ এফ এম আসাদুজ্জামান, মেজবাউল হক, আবুল কাসেম ও মো: সুলতান মাসুদ আহম্মেদ।
এ ছাড়া তালিকায় ৩৬ জন বিদেশী নাগরিক এবং ১৮টি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। দেশভিত্তিক হিসেবে ফিলিপাইনের ৩৬, উত্তর কোরিয়ার ২, চীনের ৩, শ্রীলঙ্কার ৮, জাপানের ১, ভারতের ৪ এবং বাংলাদেশের ১০টি নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তদন্তের নেপথ্য ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতিতে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। ঘটনার ৩৯ দিন পর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুরু থেকেই সিআইডি এর তদন্তভার গ্রহণ করে।
দীর্ঘদিন তদন্ত ঝুলে থাকার পর, গত বছরের ১১ মার্চ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে। এই কমিটির নিবিড় তত্ত্বাবধানেই এক দশকের তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং গত ১ এপ্রিল খসড়া চার্জশিটটি প্রস্তুত করে আইনি মতামতের জন্য পাঠানো হয়।
দীর্ঘ তদন্তের পরিক্রমা ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য
মামলার বর্তমান এবং সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন (যিনি গত বছরের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেন) বলেন: “তদন্তের ৮০ শতাংশ কাজ প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তাই শেষ করে গিয়েছিলেন। পরে অন্য কর্মকর্তারা আরো কিছু তথ্য যুক্ত করেন। শতভাগ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা একটি নির্ভুল খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করেছি। সিআইডির পক্ষ থেকে আর কোনো কাজ পেন্ডিং নেই। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে আইনি পরামর্শ পেলেই পরবর্তী আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।”
বণিক বার্তা
‘বিদ্যমান কলেজের সংকট নিরসনের আগেই নতুন মেডিকেল কলেজ অনুমোদন’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র মেডিকেল কলেজ হিসেবে ২০১৪ সালে যাত্রা করে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ। ওই বছরই রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী ক্যাম্পাসে কলেজটি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।
এরপর পুরো এক যুগ পার হলেও মেডিকেল কলেজটির জন্য কোনো স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ হয়নি। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে নেই পর্যাপ্ত জনবলও। কলেজের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বেসিক ও ক্লিনিক্যাল বিষয়ে শিক্ষকের ৫৮টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৫ জন। অধ্যাপক পদ শূন্য আছে ৭টি। এছাড়া সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকের ১৩টি করে পদ শূন্য রয়েছে। ৩৩ শূন্য পদে বর্তমানে ১৮ জন শিক্ষক সংযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন।
শুধু রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ নয়, দেশের আরো ছয়টি সরকারি মেডিকেল কলেজ কার্যক্রম চালাচ্ছে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে। এছাড়া দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের প্রায় সবগুলোতে রয়েছে শিক্ষকসহ জনবল সংকট। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিজিএমই) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মোট শিক্ষক পদের ৪৩ দশমিক ৩৮ শতাংশই বর্তমানে শূন্য। স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকা, শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি অনেক মেডিকেল কলেজে আছে শ্রেণীকক্ষ, আবাসন ও ল্যাব সংকট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো সংবেদনশীল ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে এ ধরনের মৌলিক সুবিধার অভাব দেশে দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এতে স্বাস্থ্য খাত ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত হতে পারছে না বলেও মত তাদের।
এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যমান কলেজগুলোর সংকট সমাধানের আগেই নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে একের পর এক সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিল। এতে স্বাস্থ্য শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের স্বাস্থ্যসেবায়। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার সমালোচনা সত্ত্বেও নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মুন্সিগঞ্জে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়েছে বর্তমান সরকারও। এক মাসের ব্যবধানে দুটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
গত ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। সর্বশেষ গত ১৫ জুন নরসিংদী জেলায় নতুন একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দেশে সরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯-এ।
এর আগে ২২ এপ্রিল স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জাতীয় সংসদে জানান, সরকার আরো সাতটি জেলায় নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। তবে বিদ্যমান মেডিকেল কলেজগুলোয় শিক্ষক ও অবকাঠামোগত সংকট নিরসনের আগেই নতুন কলেজ স্থাপনের এমন উদ্যোগ চিকিৎসা শিক্ষার মান নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন: ৫,৫০০ কোটির প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে ১২,৫০০ কোটি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থবির হয়ে পড়া বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন প্রকল্প গতি পেয়েছে। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা প্রকল্পটির সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশোধিত ডিপিপিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের এই প্রকল্পের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
আট বছরের ব্যবধানে প্রকল্প ব্যয় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধির বিষয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণসামগ্রী ও জমির মূল্যবৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও প্রকল্পের পরিধি সম্প্রসারণের কারণে ব্যয় বেড়েছে।
বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পথে নতুন এই ৭৬ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ হলে এ পথে দূরত্ব কমবে ১১৪ কিলোমিটার। এতে যাত্রার সময় বাঁচবে প্রায় তিন ঘণ্টা। প্রকল্প সূত্র বলেছে, প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম গতি পেয়েছে। বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে জমি বুঝে নেওয়ার কাজ চলছে।
নতুন এই ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেলওয়ে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন এই প্রকল্পে ভারতীয় ঋণে অর্থায়ন করার কথা ছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের মার্চে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রকল্পে ভারতীয় অর্থায়ন বাতিল করে। এতে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।
বর্তমানে প্রকল্পটির অর্থায়নে এগিয়ে এসেছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। আগে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। সংশোধিত প্রস্তাবে মেয়াদ আরও চার বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। সংশোধিত ডিপিপি ১৪ জুন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে প্রকল্প দপ্তর। মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে সংশোধিত ডিপিপি এক মাসের মধ্যে একনেক সভায় উঠবে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সূত্র।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কাজের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি জমির দাম, নির্মাণসামগ্রীর দাম, ডলারের বিনিময় হার অনেক বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে। জমির বর্তমান বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসন ব্যয় বাড়ায় ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। সর্বশেষ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে ইঞ্জিনিয়ারিং চাহিদার পরিবর্তন, রেল ফ্লাইওভার অন্তর্ভুক্তকরণ এবং বিভিন্ন সম্প্রসারণমূলক কাজের সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই প্রকল্পের রুট পরিবর্তনসহ বিভিন্ন প্রস্তাবের কথা জানান।
জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রকল্পটির নকশা ও অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগির ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে এটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, জনস্বার্থসহ সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যে প্রস্তাব প্রকল্প ও জনগণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বলে বিবেচিত হবে, সেটিই বাস্তবায়ন করা হবে।
দেশ রূপান্তর
‘বজ্রপাত বাড়ছে যে কারণে’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আকাশে কালো মেঘ জমলেই বৃষ্টির সঙ্গে মৃত্যুর শঙ্কা বাড়ে। এ শঙ্কা বজ্রপাতে মৃত্যুর। বাংলাদেশে বজ্রপাত এখন এক নীরব ঘাতক। বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রতি বছর বজ্রপাতে ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, আহত হন অনেকেই। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে, উন্মুক্ত মাঠে, নদীতীরবর্তী এলাকায় কৃষিকাজে নিয়োজিত মানুষেরা সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতের শিকার হচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার কারণে বজ্রপাত বাড়ছে বলে মনে করেন আবহাওয়া ও পরিবেশবিদরা।
গত ১১ জুন একদিনে দেশের ১১ জেলায় বজ্রপাতে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২৭ এপ্রিল একদিনে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ দুদিনের প্রাণহানিই দেশে বজ্রপাতের ভয়াবহতার চিত্র স্পষ্ট করে। প্রতি বছর বজ্রপাতে ৩০০ জনের বেশি মানুষ মারা যান। মৃত্যুর শিকার পরিবারগুলোতে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের উপার্জনকারী ব্যক্তি মারা গেলে ওই পরিবারে নেমে আসে চরম দুঃখ ও হতাশা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দুই দশকে বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঘটনা এবং এর তীব্রতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর পেছনে জলবায়ুর পরিবর্তন, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, অনিয়মিত আবহাওয়া এবং ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তাদের মতে, পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার ফলে বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়ছে। উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু দ্রুত উপরে উঠে শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরি করে। মেঘে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জের পার্থক্য বাড়লে বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে মার্চ থেকে মে মাসে প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কালবৈশাখীর সময় মেঘে বিদ্যুতের প্রবাহ তৈরি হয় এবং তা বজ্রপাতের মাধ্যমে ভূমিতে নেমে আসে। কয়েক সেকেন্ডের এ প্রাকৃতিক ঘটনা মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।
তিনি বলেন, নগরায়ণ, বন উজাড় হওয়া এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে বজ্রপাতের প্রকৃতি ও তীব্রতায় পরিবর্তন এসেছে। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, আর্দ্রতার পরিবর্তন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বজ্রপাতের সময়কালও দীর্ঘ হচ্ছে। আগে মার্চ-এপ্রিলকে বজ্রপাতের মৌসুম ধরা হতো। এখন সময়সীমা বেড়ে আগস্ট মাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। বৃষ্টিপাত বেশি হলে বজ্রপাতের ঝুঁকিও বাড়ে। হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়। বজ্রপাতের নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। সচেতনতাই কার্যকরী প্রতিরোধ।
স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগ ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বাংলাদেশে বজ্রপাতে প্রতি বছর শত শত মানুষের প্রাণহানি হয় ও কৃষিজীবী মানুষের ঝুঁকি বাড়ে এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব মিলিয়ে বজ্রপাত দেশের অন্যতম দুর্যোগে পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, বিগত শতকের নয়ের দশকে দেশে বজ্রপাতে বছরে গড়ে ৩০ জনের মৃত্যু হতো। এখন তা বেড়ে ৩০০-৩৫০ জনে পৌঁছেছে। ২০২০ সালে বজ্রপাতে মারা যান ৪২৭ জন। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এটি নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সহযোগীদের খবর
গরম বাড়লেই গ্রামে বাড়তি লোডশেডিং
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
৩ ঘন্টা আগে
১৮ জুন (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৯ঃ২৮ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
