ফুটবল ইতিহাসে দিনটি স্মরণীয় ঐতিহাসিক

ফুটবল ইতিহাসে দিনটি স্মরণীয় ঐতিহাসিক

ফন্ট সাইজ:

সত্যি দিনটি ছিল তারকাদের। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তারকাদের তারকা মেসি, এমবাপ্পে আর আর্লিং হালান্দের দিন। তারা কেউই হতাশ করেননি। রীতিমতো গোলের প্রতিযোগিতা করেছেন। এর মধ্যে মেসি ঐতিহাসিক। মেসি মহাকাব্যের নায়ক। বয়স যে কোনো ফ্যাক্টর নয়Ñ তা প্রমাণ করেছেন তিনি। হ্যাটট্রিক করে বয়সকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। মনে হয়েছে মেসি ফুটবলার নয়, একজন জাদুকরের ভূমিকায়। একদিনে তিন রেকর্ড পেয়েছেন। ১৬ গোলে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছুঁয়েছেন। ক্যামেরুনের রজার মিলা ৩৮ বছর ৩৪ দিন খেলেছিলেন। ১৯৯০ বিশ্বকাপে রজার মিলা আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন। মাত্র এক সপ্তাহ বাদে মেসি ৩৯-এ পা দেবেন। প্রিয় বন্ধু রোনালদোর রেকর্ডও ছুঁয়েছেন। প্রথম গোল করে কাঁদলেন ঠিকই। তবে সেটা আনন্দের। সতীর্থদের কথা ভেবেই তার চোখে পানি এসেছিল।

খেলা শেষে বলেছেন, আমি গর্বিত, আনন্দিত। আমার টিমমেটরা আমাকে এই সুযোগ করে দিয়েছে। তারা বরাবরই আমার পাশে ছিল। আলজেরিয়ার গোলকিপার লুকা জিদান ফুটবলতারকা জিনেদিন জিদানের ছেলে। মেসির থেকে অন্তত দশ বছরের ছোট। স্পেনের দ্বিতীয় ডিভিশনের একটি ক্লাবে খেলেন। মেসির দ্বিতীয় গোলের পর ক্যামেরার লেন্স যায় জিদানের দিকে। জিদান তখনো ভাবেননি তার ছেলে যখন গোলকিপার মেসি তখন এক নতুন ইতিহাস তৈরি করতে যাচ্ছেন। জিদান কতোটা অসহায়! ছেলের এই দুরবস্থায় পাশে থাকতে পারছেন না। সেটাই শুধু ভাবছিলেন। লুকা জিদান গোলপোস্ট সামলাতে পারলেন না। মেসি জাদুমন্ত্রের মতো তিন গোল করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলেন। ফুটবল ইতিহাসে প্রমাণ করলেন- মেসিই শুধু মহাকাব্য রচনা করতে পারেন। ৬টি বিশ্বকাপে মেসি অনন্য। একবার তো বিশ্বকাপ নিয়ে বুয়েন্স আয়ার্সে ফিরলেন। কাতার বিশ্বকাপই যেন মেসির শেষ। কিন্তু মেসি থাকলেন। এগিয়ে গেলেন। বোধ করি, নতুন ইতিহাসের জন্ম দেয়ার জন্যই মেসি আছেন, থাকবেন।

ফরাসি তারকা এমবাপ্পে আর নরওয়ের তারকা আর্লিং হালান্দ কম কিসে! তারাও বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক এই দিনটিতে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। সেনেগালকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন এমবাপ্পে। আর রাজনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত ইরাককে বড় বেশি কষ্ট দিয়েছেন হালান্দ। ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা ফুটবলার অবাক করা গোল করেছেন। হ্যাটট্রিক হয়েও হয়নি। তাতে কী! বিশ্বকাপে নেমেই দুটো গোল পেয়েছেন। ইতিহাস তাকেও স্মরণ করবে। ঘুরে ফিরেই আবার মেসি। খেলা শেষে বলছেন, এটা খুবই স্মরণীয় মুহূর্ত। সত্যি আমি ভালো বোধ করছি। ওদিকে ফুটবলপণ্ডিতরা বলতে শুরু করেছেন, এটা আসলেই মেসির দুনিয়া। যেখানে আমরা সবাই বাস করছি।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন