বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ৯৮ জনের জন্ম ফ্রান্সে

বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ৯৮ জনের জন্ম ফ্রান্সে

ফন্ট সাইজ:

ফ্রান্সের ফুটবল একাডেমিগুলো যেন বিশ্ব ফুটবলের ‘ট্যালেন্ট ফ্যাক্টরি’। ২০২৬ বিশ্বকাপের দলগুলোর দিকে তাকালে এমন চিত্রই মিলবে। উত্তর আমেরিকায় এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের মধ্যে ৯৮ জনের জন্ম ফ্রান্সে। যার মধ্যে ৭৬ জনই অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, ফ্রান্স কেবল নিজের শক্তিতেই ফুটবল পরাশক্তি নয়, বরং বিশ্বের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোতে প্রতিভা রপ্তানির ক্ষেত্রেও তারা এককভাবে সবার শীর্ষে।

গতকাল আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা। বলা যায়, আর্জেন্টাইনদের এই লড়াইয়ে পরোক্ষভাবে জড়িয়ে ছিল ফ্রান্সও। ফ্রান্সে জন্ম নেয়া খেলোয়াড়দের অন্য দেশের হয়ে খেলার তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে আলজেরিয়া। দলটির স্কোয়াডের ১৩ জন খেলোয়াড়ের জন্ম ফ্রান্সে। এরপরই রয়েছে হাইতি (১২ জন) এবং সেনেগাল (১০ জন)। এছাড়া আইভরি কোস্ট এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোও ফ্রান্সের এই প্রতিভার পাইপলাইনের সুবিধাপুষ্ট।

এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেয়া মোট ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৯২ জনের জন্ম এমন দেশে, যে দেশের হয়ে তারা খেলছেন না। আর এই বিশাল সংখ্যার একটি বড় অংশই দখল করে আছে ফ্রান্স। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সে জন্ম নেয়া মাত্র ৫০ জন খেলোয়াড় অন্য দেশের হয়ে খেলেছিলেন। মাত্র দুটি বিশ্বকাপ চক্রের ব্যবধানে সেই সংখ্যাটি লাফিয়ে ৭৬-এ দাঁড়িয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে ৫০%।

ফ্রান্সের এই ফুটবলীয় আধিপত্যের পেছনে রয়েছে তাদের অতীত ঔপনিবেশিক ইতিহাস। এর ফলে পশ্চিম আফ্রিকা, উত্তর আফ্রিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ফ্রান্সের একটি গভীর সংযোগ তৈরি হয়। সেনেগাল, আলজেরিয়া, মরক্কো, আইভরি কোস্ট এবং হাইতির মতো দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ফ্রান্সে বড় হয়েছে। আর তাদের সন্তানরাই ফ্রান্সের বিশ্বমানের একাডেমিগুলোতে ফুটবলার হিসেবে তৈরি হয়েছে।

ফিফার নিয়ম ও দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, একজন খেলোয়াড় তার বাবা-মা বা দাদা-দাদী/নানা-নানীর বংশসূত্রে অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। ফলে ফ্রান্সে জন্ম নেয়া অনেক দ্বৈত নাগরিকত্বের ফুটবলার তাদের পরিবারের আদি দেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। রিয়াদ মাহরেজ (প্যারিসের শহরতলীতে জন্ম, খেলেন আলজেরিয়ার হয়ে) কিংবা কালিদু কুলিবালি (ফ্রান্সে জন্ম, খেলেন সেনেগালের হয়ে) তাদের অন্যতম। তারা ফ্রান্সে বড় হয়েছেন, ফরাসি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, কিন্তু বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করছেন বাবা-মায়ের দেশের। এবারের বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার হয়ে খেলছেন ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের পুত্র লুকা জিদান। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ছেলেন ৩-০ গোলের হারের ম্যাচটি গ্যালারিতে বসেই দেখেছেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী তারকা জিনেদিন জিদান।
বিশ্ব ফুটবলের জন্য এর অর্থ কী? এবারের বিশ্বকাপের মোট খেলোয়াড়ের প্রায় ২৩% (১,২৪৮ জনের মধ্যে ২৯২ জন) তাদের জন্মভূমির বাইরে অন্য দেশের হয়ে খেলছেন। এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সামনে নতুন কিছু প্রশ্ন ও ভাবনার খোরাক জোগাচ্ছে। তবে মুদ্রার অপর পিঠও রয়েছে। হাইতির মতো একটি দেশ, যারা তাদের স্কোয়াডে ১২ জন ফরাসি-বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় রাখছে, তারা এমন এক উন্নত একাডেমি ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সুবিধা পাচ্ছে যা তাদের নিজস্ব দেশের অবকাঠামোতে তৈরি করা অসম্ভব ছিল।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন