তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে আরও দেড় হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা পেলো সংকটে থাকা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিশেষ উদ্যোগে ব্যাংকটিকে এই ফান্ড সরবরাহ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে গত তিনদিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ব্যাংকটি মোট ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সহায়তা পেলো। তবে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ সহায়তার প্রভাব শুধু ইসলামী ব্যাংকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং এর একটি পরোক্ষ প্রভাব অন্য ব্যাংক তথা দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতেও লক্ষ্য করা গেছে।
ইসলামী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই তহবিল পাওয়ার ফলে ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারগুলোতে চাপ অনেকটাই কমে আসবে। গ্রাহকরা এখন সহজেই তাদের চেক ক্যাশ করতে পারছেন, যা বাজারে ব্যাংকের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। বৈঠক শেষে সংগঠনটি সাত দফা দাবি উত্থাপন করে। সংগঠনের আহ্বায়ক নুর উন নবী বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উত্থাপিত সাত দফা দাবির সঙ্গে ডেপুটি গভর্নর একমত পোষণ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার পর বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে গভর্নর তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
অন্য ব্যাংকে এর প্রভাব কী:
ইসলামী ব্যাংককে দেয়া এই বিশাল অঙ্কের তারল্য সহায়তার পর সাধারণ ও শরীয়াহ্ভিত্তিক অন্য ব্যাংকগুলোর ওপর এর প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। গ্রাহকরা জানান, বুথ থেকে টাকা তুলতে পারছি না। টাকা তুলতে পেরেছি তবে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে একটা বুথে টাকা পেয়েছি। ১৫ হাজার টাকা তুলতে পেরেছি। কিন্তু ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা। ব্যাংকটির শাখা থেকে টাকা তুলতে না পারলেও বিকল্প অপশন ছিল এটিএম বুথ। কিন্তু সেখানেও নোটিশ ঝুলানো ছিল যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটিএম বুথ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বুথে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী কথা বলতে রাজি হননি। এটিএম বুথের সেবায় দেশের সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক হলো- ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। এখানেও গ্রাহকরা টাকা তুলেতে ভোগান্তিতে পড়েন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ ও পরামর্শ:
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধারাবাহিক টাকা দেয়ার প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও কিছুটা উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, শুধু টাকা ধার দিয়ে একটি ব্যাংকের ভেতরের ক্ষত সারানো সম্ভব নয়। টাকা ধার দেয়া সাময়িক স্বস্তি দিলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়। যদি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায় না হয় এবং করপোরেট সুশাসন ফিরিয়ে আনা না যায়, তবে এই টাকাও শেষ হয়ে যাবে। উল্টো বাজারে অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের কারণে মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশনের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
