লাশ নিয়ে বিক্ষোভ প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

রামগঞ্জে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

লাশ নিয়ে বিক্ষোভ প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

ফন্ট সাইজ:

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির হোস্টেলে থাকা অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর

চালিয়েছে এলাকাবাসী। নিহত স্কুল শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজারের ফ্যামিলি ফ্যাশনের মালিক জিয়া উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে রামগঞ্জ থানা গেটের সামনে মেহেদীর লাশবাহী গাড়ি রেখে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে পুলিশ বিচারের আশ্বাস দিলে কর্মসূচি শেষ করে আন্দোলনকারীরা।

কর্মসূচিতে অংশ নেন, মেহেদীর বাবা-মাসহ আত্মীয়রা। মানববন্ধনে অভিযোগ করে বক্তারা বলেন, মেহেদী হাসানের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ছিল না। তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তারা। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। এদিকে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ১৫ই জুন মেহেদী হাসানকে ২০২৬ সালের এসএসসি ব্যাচের কয়েকজন পরীক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। ১৬ই জুন প্রধান শিক্ষক বরাবর বিচার চেয়ে একটি অভিযোগ দেয় মেহেদী হাসান। ১৭ই জুন বুধবার বিকালবেলায় কলেজ হোস্টেল থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। এ ঘটনার সঙ্গে প্রতিষ্ঠান কোনোভাবে জড়িত নয়।

তবে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে আগামী ৭ দিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করার জন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলেজ হোস্টল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মেহেদী হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদের নামে স্থানীয়রা ওইদিন সন্ধ্যার পর থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালায়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, এখনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মেহেদী হাসানকে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তাকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন নিহত শিক্ষার্থীর স্বজন ও এলাকাবাসী। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাস্তায় নামে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজারের ফ্যামিলি ফ্যাশনের মালিক জিয়া উদ্দিনের ছেলে মেহেদী হাসান ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমিতে হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতো। সে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে হোস্টেল থেকে মেহেদী হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে দ্রুত চাটখিল হাসপাতালে নেয়া হয়। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ধোঁয়াশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ জনতা ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ও আসবাবপত্রে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এতে কয়েকজন আহত হয়।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন