গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে মেক্সিকো দ. কোরিয়া

গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে মেক্সিকো দ. কোরিয়া

ফন্ট সাইজ:

‘অনারারি মেক্সিকান’ খেতাবটা তাহলে পেয়েই গেলেন সন হিউং-মিন! গুয়াদালাহারার রাস্তা ঘাট, রেস্তরাঁ- যেখানেই যাচ্ছেন ভক্ত জুটে যাচ্ছে। তারা সনের সঙ্গে সেলফি তুলছে, কুশল বিনিময় করছে। তিনি কী খাচ্ছেন না খাচ্ছেন তারও খবর নিচ্ছেন স্থানীয়রা! সন যেন তাদের কতো আপনজন। ২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ান এই ফুটবলারের প্রতি অন্যরকম এক মায়া কাজ করে মেক্সিকানদের। সেবার সনের গোলে বিদায় নিশ্চিত হয় জার্মানির। তাতে কপাল খুলে যায় মেক্সিকোর। তবে আগামীকাল দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। সনের বিরুদ্ধেই গলা ফাটাবেন তার মেক্সিকান ভক্তরা। গুয়াদালাহারায় সনের দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে স্বাগতিকরা।

উভয় দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পায়। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারায় মেক্সিকো। আর চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও শেষতক ২-১ গোলে জেতে দক্ষিণ কোরিয়া। গ্রুপসেরার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে তাই জয়ের বিকল্প ভাবছে না মেক্সিকো-দক্ষিণ কোরিয়া। আর ইতিহাস কথা বলছে মেক্সিকোর হয়ে। কোরিয়ার বিপক্ষে ১৫ ম্যাচে ৮টিতেই জয়। চার হারের বিপরীতে ড্র তিনটি। বিশ্বকাপে মুখোমুখি দুই সাক্ষাতেই জয় পায় উত্তর আমেরিকান দলটি। ১৯৯৮ সালে ৩-১ এবং ২০১৮তে ২-১ গোলে হার মানে কোরিয়া। তবে সাবেক কোরিয়ান তারকা লি ইয়ং এবার আত্মবিশ্বাসী। সংবাদমাধ্যম সিউল স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘মেক্সিকো খুবই শক্তিশালী দল। তাদের খেলা দেখলে সবচেয়ে চোখে পড়ে বল পুনরুদ্ধারের পর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার ক্ষমতা। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই তারা আক্রমণে রূপ নেয়। তবে রক্ষণভাগের পেছনের জায়গা সঠিকভাবে সামলাতে পারলে এবং মেক্সিকোর আক্রমণ-রক্ষণ বদলের ছন্দ বুঝতে পারলে দক্ষিণ কোরিয়ার জেতার সুযোগ অবশ্যই আছে।’

বিগ ম্যাচের আগে সুখবর কোরিয়ান শিবিরে। গত ১৩ দিনে প্রথমবার পূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে অনুশীলন করেছে দলটি। চোটে থাকা উইংগার বে জুন-হো ও সেন্টারব্যাক কিম তাই-হিউন ফিরেছেন ট্রেনিংয়ে। কোচ হং-মিয়ং-বোর জন্য যা বড় স্বস্তি। বে জুন-হো মাঝমাঠ ও আক্রমণের সংযোগ তৈরি করতে পারেন। মেক্সিকোর বিপক্ষে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে যা সহায়তা করবে। কিম তাই-হিউনের ফেরা রক্ষণভাগের গভীরতা বাড়াবে।
অন্যদিকে, মেক্সিকোও এই ম্যাচে একাদশে ফিরে পারে অধিনায়ক এডসন আলভারেজকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাকে শুরুতে নামাননি কোচ হাভিয়ের আগুইরে। সিজার মন্টেজ লাল কার্ড দেখায় তার জায়গা নেবেন এডসন। এছাড়া কোরিয়া ম্যাচের আগে মেক্সিকো শিবির থেকে নতুন করে চোটের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কোচ আগুইরে আরও দুটি পরিবর্তন আনতে পারেন। শুরুর একাদশ থেকে বাদ পড়তে পারেন ব্রায়ান গুতিয়েরেজ এবং ইসরায়েল রেয়েস। গিলবার্তো মোরা এবং হোর্হে সানচেজ তাদের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

রেফারি নিয়ে আপত্তি
ম্যাচে রেফারি হিসেবে উরুগুয়ের গুস্তাভো তেহেরাকে নিয়োগ দেওয়ায় আপত্তি তুলেছে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রীড়া দৈনিক স্পোর্টস চোসান। তাদের যুক্তি, তেহেরা স্প্যানিশ ভাষী এবং মেক্সিকান খেলোয়াড় ও কোচরাও স্প্যানিশে কথা বলেন। ফলে ম্যাচ চলাকালে রেফারির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মেক্সিকো তুলনামূলক সুবিধা পেতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে এটিকে ‘অন্যায্য’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বকাপে সাধারণত বিভিন্ন কনফেডারেশনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়। তাই বিষয়টি কোরিয়ান সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে।

তেহেরা নিজেকে ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ রেফারি বলে দাবি করলেও দক্ষিণ আমেরিকায় তুলনামূলকভাবে বেশি কার্ড দেখানোর জন্য পরিচিত তিনি। ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হলে সতর্কবার্তা বা কার্ড দিতে দ্বিধা করেন না। ফলে এই ম্যাচেও কার্ডের সংখ্যাও বাড়তে পারে।
হেড টু হেড
                 জয় হার ড্র
মেক্সিকো     ৮   ৪    ৩
দ. কোরিয়া  ৪    ৮   ৩


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন