গোল করে বাবাকে খুঁজছিলেন আয়মেন!

গোল করে বাবাকে খুঁজছিলেন আয়মেন!

ফন্ট সাইজ:

নরওয়ের বিপক্ষে জিততে পারেনি ইরাক। ৪-১ গোলে হারলেও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন দলটির অধিনায়ক ও স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেইন। নরওয়ের বিপক্ষে গোল করার পর তার উদযাপন যেন ছিল এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। এই গোলের পেছনে লুকিয়ে আছে এমন এক জীবনগাথা, যা শুনলে যেকোনো মানুষের চোখ ভিজে আসবে। ইরাকের আল-হাওয়িজা জেলার আল-সাফরা গ্রামে জন্ম নেয়া আয়মেনের শৈশব কেটেছে যুদ্ধ, গুলির শব্দ, বারুদের গন্ধ ও বিস্ফোরণের মধ্যে। ১২ বছর বয়সে তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। ইরাকি সেনাবাহিনীর সদস্য বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করে আল-কায়েদা। বাবার স্বপ্ন ছিল পরিবারের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করা। কিন্তু বাড়ি তৈরির মালামাল কিনতে গিয়ে ঘাতকের কবলে পড়েন তিনি। বাবাকে হারানোর পর আয়মেন ফুটবল ছাড়ার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু বাবার অসমাপ্ত বাড়িটি তৈরির সংকল্প তাকে বারবার মাঠে ফিরিয়ে এনেছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘ফুটবল আমার প্রাণ হলেও, আমার মূল স্বপ্ন ছিল বাবার অসমাপ্ত বাড়িটি সম্পন্ন করার জন্য টাকা জমানো।’

বাবার শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই আয়মেনের জীবনে আসে আরেক আঘাত। সেনাবাহিনীর সদস্য তার বড় ভাইকে অপহরণ করে আইএসআইএস। আজ পর্যন্ত তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি। এ বাবা ও ভাইকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন আয়মেন। ফুটবল ছাড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই কঠিন সময়ে পথ দেখান তার মা। সেই অনুপ্রেরণাই তাকে ইরাক ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকায় পরিণত করে। ২০২৩ এশিয়ান কাপে ইরাকের হয়ে ৬ গোল করেন আয়মেন।

বাছাইপর্বে বলিভিয়ার বিরুদ্ধে তার জয়সূচক গোলটিই ইরাককে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে পৌঁছে দেয়। ইরাক সরকার তাকে এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কূটনৈতিক পাসপোর্ট, বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, তিনটি গাড়ি ও বিশেষ গোল্ড আইফোন উপহার দেয়। বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখতেই ফের বিপদে পড়েন আয়মেন। শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরে তাকে প্রায় সাত ঘণ্টা আটকে রেখে জেরা করে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। এমন মানসিক নিপীড়ন সত্ত্বেও তিনি দমে যাননি। তার খেলার মাঠে জবাব দেয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। নরওয়ের বিপক্ষে আয়মেনের গোল তো তারই প্রমাণ!

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন