ঘরের মাঠে আসরের শুরুটা আশানুরূপ ছিল না কানাডার। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সঙ্গে কোনোমতে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে কোচ জেসি মার্শের দল। এবার তাদের সামনে গতবারের আয়োজক কাতার। শুক্রবার ভোর ৪টায় ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে কাতার-কানাডা। সুইজারল্যান্ডকে রুখে দিয়ে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতারও। শেষ ৩২-এর টিকিট পেতে তাই এই ম্যাচকে পাখির চোখ করছে কানাডা। আর স্বাগতিক শিবিরের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে আলফোনসো ডেভিসের ফেরা।
গত সোমবার অনুশীলনে দেখা গেছে তাকে। গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ডেভিসকে পাওয়ার আশা মার্শের। তবে দলের প্রধান তারকাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না তিনি। কানাডিয়ান ডিফেন্ডার জোয়েল ওয়াটারম্যান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সে (ডেভিস) আমাদের দলের সেরাদের একজন। সে বিশ্বমানের। তাকে স্কোয়াডে পাওয়া হবে দারুণ ব্যাপার।’ কানাডার বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলটি এসেছিল ডেভিসের পা থেকেই। বায়ার্ন মিউনিখ তারকা গত আসরে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করেন। তবে ওই ম্যাচে ৪-১ ব্যবধানে হেরে যায় কানাডা। এর আগে বেলজিয়ামের কাছে ১-০ এবং তৃতীয় ম্যাচে মরক্কোর কাছে পরাজিত হয় ২-১ গোলে। ১৯৮৬ সালে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিষেকেও তিন ম্যাচে হেরেছিল কানাডা। সে হিসাবে বসনিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র তাদের সেরা ফল। আর কাতার ম্যাচ সামনে রেখে ওয়াটারম্যান বলেন, ‘আমাদের দলের ২৬ জনেরই আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। যেই সুযোগ পাক মাঠে নেমে নিজের সেরাটা দিতে পারবে।’ বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের পর নিজেদের উন্নতির বেশ কিছু জায়গা খুঁজে পেয়েছেন মার্শ। তিনি বলেছেন, ফাইনাল থার্ডে তার দলকে আরও কার্যকর হতে হবে। তৈরি হওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে। তবে মার্শ দলের প্রেসিং, গতি ও লড়াকু মানসিকতার প্রশংসাও করেছেন। কাতারে বিপক্ষে যা তাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। গত আসরে আয়োজক কাতার গ্রুপ পর্বে হেরেছিল তিন ম্যাচেই। এবার ড্র নিয়ে শুরু করাটাকে দারুণ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন কোন হুলেন লোপেতেগি। শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে যোগ করা সময়ের (৯০+৪) আত্মঘাতী গোলে হার এড়ায় কাতার। ম্যাচের পর লোপেতেগি শিষ্যদের প্রশংসা করে বলেন, ‘দলের মানসিকতা ও শৃঙ্খলা নিয়ে আমি গর্বিত।’
ভ্যাঙ্কুভারে স্বাগতিকদের চাপ নিতে প্রস্তুত এই স্প্যানিয়ার্ড বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ কঠিন হবে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার আমরা নিজেদের যোগ্যতায় অর্জন করেছি।’
কৌশলগত ছক
বসনিয়া ম্যাচে কানাডার ফরমেশন ছিল ৪-৪-২। যেখানে আক্রমণভাগে জোনাথন ডেভিডের সঙ্গে ছিলেন টানি ওলুয়াসেয়ি। কিন্তু এ জুটি ব্যর্থ হওয়ায় বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় প্রমিস ডেভিড ও কাইল লারিনকে। প্রমিসের যুগলবন্দিতেই ৭৮ মিনিটে সমতাসূচক গোলটি করেন লারিন। আর সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কাতার কোচ লোপেতেগি ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজান। আকরাম আফিফকে কেন্দ্র করে কাতার অধিকাংশ আক্রমণ শানায় লেফট উইং ধরে।
নজর থাকবে যাদের ওপর
বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন কানাডিয়ান ডিফেন্ডার রিচি লারিয়া। ৯০ মিনিট খেলে পাঁচটি ট্যাকলের চারটি এবং আটটি গ্রাউন্ড ডুয়েলের সবকটিই জেতেন তিনি। দুটো কি পাসও এসেছে তার পা ছুঁয়ে। স্বাভাবিকভাবেই তার ওপর নজর থাকবে এবার। এছাড়া সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার স্টিফেন ইয়োস্তাকুইওর পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। বদলি নেমে গোল করে শুরুর একাদশে জায়গার দাবি জোড়ালো করেছেন লারিন।
অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে কাতারের রক্ষণকে জমাট রাখতে বড় অবদান রাখেন সেন্টারব্যাক পেদ্রো মিগুয়েল। লেফটব্যাকে হুমাম আল হামিম, ইসা লায়ে এবং উইংয়ে আকরাম আফিফ দ্যুতি ছড়ান। এই ত্রয়ীকে সামলানোই প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে কানাডার। আন্তর্জাতিক ম্যাচে এর আগে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয় কাতার-কানাডা। ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে লারিন ও ডেভিডের গোলে ২-০তে জেতে কানাডা।
