‘মেসির ওপর যেন বেশি চাপ না পড়ে’

‘মেসির ওপর যেন বেশি চাপ না পড়ে’

ফন্ট সাইজ:

লিওনেল মেসি যা করলেন, তা রূপকথাকেও হার মানায়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে করলেন রেকর্ড গড়া এক হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড এটি। আগামী ২৪শে জুন তিনি ৩৯ বছরে পা দেবেন, অথচ প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়েছেন তারুণ্যের ক্ষিপ্রতায়। সবচেয়ে বয়সী ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক ও জোড়া গোলের কীর্তি এখন এই মহাতারকার ঝুলিতে। মেসির নৈপুণ্যে মুগ্ধ বাংলাদেশের সাবেক ডিফেন্ডার ও ‘দ্য ওয়াল’ খ্যাত মোহাম্মদ ওয়ালী ফয়সালও। তিনি বলেন, ‘মেসিকে মাঠে দেখে মনে হয়েছে একেবারে যেন তরুণ খেলোয়াড়। তাকে বুড়ো বললে ভুল হবে। আর মনেও হয়নি এত বয়সে তিনি ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছেন। যেভাবে ৩টি গোল করেছেন সেটি মেসি বলেই সম্ভব। এই বিশেষ কারণেই তাকে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় ডাকা হয়। আমার কাছে মনে হয়নি বয়স তার কাছে কোনো বিষয়।’ এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে মেসি নিজের ক্যারিয়ারকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। গত ১০ই জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গোল করে তিনি কিংবদন্তি আনহেল লাব্রুনার বহু পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেশের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা হন। গতকাল সেই কীর্তি আরও উঁচুতে নিলেন। মাত্র ১৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে অভিষেক বিশ্বকাপে প্রথম গোল করা এই তারকা এখন একই সঙ্গে দেশের সবচেয়ে তরুণ ও বয়স্ক গোলদাতা। দুই গোলের মাঝে ২০ বছরের দীর্ঘ ব্যবধান তার অবিশ্বাস্য ফর্মেরই প্রমাণ। তবে আর্জেন্টিনা দল হিসেবে যেভাবে খেলেছে তাদের এই দাপুটে শুরুকে চ্যাম্পিয়নসুলভ বলেই মনে করছেন ওয়ালী ফয়সাল। তিনি বলেন, ‘আসলে অসাধারণ খেলেছে।

বিশেষ করে মেসি ও তার দল যেভাবে খেলেছে সেখানে যেকোনো দলের জন্য জয় পাওয়া কঠিন। ৩-০ গোলে জয় আসলেই আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়নদের মতো শুরু করেছে।’ বিশ্বমঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ দেখে দুই দলের খেলার মূল্যায়ন নিয়ে ফুটবল মহলে আলোচনা চলছে। সেলেসাও দলটি মূলত তরুণ ও অনভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত, যাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিপক্ব হতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। অন্যদিকে, আকাশি-সাদারা তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার চমৎকার ভারসাম্য গড়েছে, যেখানে অধিনায়ক মেসিই মূল পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন। নেইমার না থাকায় ব্রাজিলের আক্রমণভাগ ছন্নছাড়া ছিল। দুই দলের এই ভিন্নতা নিয়ে ওয়ালী ফয়সাল বলেন, ‘দেখেন ব্রাজিল দলটা একেবারেই তরুণদের। তাদের আরও ২ বা ৩ বছর খেললে হয়তো আসল রূপে আসবে। তবে আর্জেন্টিনা তারুণ্য ও অভিজ্ঞদের নিয়ে দারুণ দল। মেসি সেই পার্থক্যটা গড়ে দিয়েছে। নেইমার যদি খেলতে পারতো তাহলে হয়তো ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচটাও অন্যরকম হতে পারতো। এখানেই বলবো এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পার্থক্য।’

ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিট জাদুকরকে ছাড়া আলবিসেলেস্তেদের মাঠের খেলায় ছন্দপতন ঘটেছিল কি! অতিরিক্ত মেসি-নির্ভরতা দলটির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও রব উঠেছে। মহাতারকাকে ছাড়া মাঠের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে ফয়সাল বলেন, ‘হ্যাঁ, কিছুটা তো প্রভাব পড়বেই। কারণ মেসি মাঠে থাকা মানে তার দলের আত্মবিশ্বাস অন্যরকম থাকে। প্রতিটি প্লেয়ার মোরালি বুস্টআপ থাকে। আমার কাছে মনে হয়েছে মেসি ছাড়া আর্জেন্টিনার ছন্দে থাকা বেশ কঠিন হবে। যেমনটা হয়েছিল ম্যারাডোনা দল থেকে চলে যাওয়ার পর। মেসি-নির্ভর হলে দলের ক্ষতি হবে অবশ্যই। দলের সবাইকে খেলতে হবে পাশাপাশি মেসি যেন চোটে না পড়ে, তার ওপর যেন বেশি চাপ না পড়ে তাহলে ছন্দ হারাবে।’


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন