ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হার বাংলাদেশের

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হার বাংলাদেশের

ফন্ট সাইজ:

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হার দেখলো বাংলাদেশ। লিডসে গতকাল টাইগ্রেসদের ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারায় রেকর্ড ছয় বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় অস্ট্রেলিয়া। ওপেনার বেথ মুনি ১০ রান করে মারুফা আক্তারের বলে আউট হলেও জর্জিয়া ভল এবং এলিস পেরির দৃঢ়তায় সহজে জয় নিশ্চিত করে অজিরা। জর্জিয়া ভল ৩২ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন। আর অভিজ্ঞ এলিস পেরি ১৫ বলে ১৯ রান করে মাঠ ছাড়েন। মাত্র ৯.৩ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ২০শে জুন পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে টাইগ্রেসরা।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে রানের খাতা না খুলেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার দিলারা আক্তার। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ফিফটি করা আরেক ওপেনার জুরাইরিয়া ফেরদৌসও দ্রুত ফিরে যান। ১৫ রানে দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ। পঞ্চম ওভারে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন শারমিন আক্তার। চাপ সামাল দিতে গিয়ে ধীর গতিতে ইনিংস বড় করার চেষ্টা করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু অন্যপ্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে টাইগ্রেসরা। সুবহানা মোস্তারি ৪ ও স্বর্ণা শূন্য রানে আউট হলে ২৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ষষ্ঠ উইকেটে রিতু মনিকে নিয়ে ৫২ বলে ৩২ রানের জুটি গড়েন জ্যোতি। দলীয় ৫৯ রানে ২৬ বলে ১৬ করা রিতু সাজঘরে ফেরেন। দুই ওভার পর জ্যোতিও একই পথ ধরেন। ২ চারে ৪৭ বলে ২৭ রান করেন টাইগ্রেস অধিনায়ক। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৭৭ রান তোলে বাংলাদেশ। বল হাতে ২ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে অপরাজিত ১৯ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার এলিস পেরি।

হারের পর টাইগ্রেস অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেন, ‘আমরা প্রথম ১০ ওভারেই অনেক উইকেট হারিয়ে ফেলি, যা পরিস্থিতি খুব কঠিন করে তুলে। আমরা জানি, আমরা এর চেয়েও ভালো খেলার ক্ষমতা রাখি... আমাদের বোলিং লাইনআপ খুব শক্তিশালী। (দল নির্বাচন নিয়ে) আমরা দুজন অভিজ্ঞ বোলারকে খেলাতে চেয়েছিলাম এবং ভেবেছিলাম তারা ভালো রান আটকে রাখতে পারবে। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে রান বোর্ডে যোগ করা খুব জরুরি, অন্যথায় জেতা কঠিন। আমরা পাওয়ার হিটার ব্যাটার খুঁজছি... কিন্তু এমন খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়া আসলে বেশ কঠিন।’

ম্যাচ শেষে পেরি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা বল হাতে শুরুটা দারুণ করেছিলাম। কিম (গার্থ) শুরুতে উইকেটগুলো নিয়ে আমাদের এগিয়ে দিয়েছে, পিচটা আজ কিছুটা সিম-বান্ধব মনে হচ্ছিলো। পুরো দলের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। আমি দলের জন্য অবদান রাখতে পেরে খুব খুশি। আমি যখনই অবদান রাখার সুযোগ পাই, সেটা উপভোগ করি। বোলিংয়েও আমি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি, এটা করতে আমি খুব ভালোবাসি।’ ‘এ’ গ্রুপে দুই ম্যাচে এক জয় ও এক হারে পয়েন্ট তালিকার তিনে বাংলাদেশ। শতভাগ জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন