সবার মেনে নেয়া উচিত, মেসিই সর্বকালের সেরা: রোনালদো

সবার মেনে নেয়া উচিত, মেসিই সর্বকালের সেরা: রোনালদো

ফন্ট সাইজ:

আলজেরিয়ার বিপক্ষে জাদুকরী হ্যাটট্রিকে মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ছোঁয়ার পর ফুটবল বিশ্বে এখন কেবলই লিওনেল মেসি বন্দনা। ৩৯ ছুঁই ছুঁই বয়সে, ক্যারিয়ারের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসেও এই মহাতারকার এমন আধিপত্য দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব ফুটবলের সাবেক তারকা ও শীর্ষস্থানীয় বিশ্লেষকরা। ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো নাজারিও তো সবাইকে মেনে নিতে বলছেন যে, মেসিই সর্বকালের সেরা।

কোনো রাখঢাক না করেই মেসিকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন রোনালদো। ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এ কিংবদন্তি স্ট্রাইকার বলেন, ‘প্রতিবার মেসি যখন মাঠে নামে, তখন সবকিছু যেন নান্দনিক ও ঐতিহাসিক মুহূর্তে রূপ নেয়। পুরো বিশ্বের সামনে সময় এসেছে, লুকোচুরি না করে আমাদের সবাইকে মেনে নেয়া উচিত মেসিই সর্বকালের সেরা।’
ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি ফক্স স্পোর্টসে মেসির অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা নিয়ে বলেন, ‘আমরা ম্যাচের আগেই বলেছিলাম, মেসি আর ক্রিস্টিয়ানোÑ ওরা দুজনেই আসলে চাঁদের বাসিন্দা। এই গ্রহের কেউ নয়। মেসি আজ আবারও মনে করিয়ে দিলো ও কেন অনন্য। ও পুরোপুরি আলাদা স্তরের একজন ফুটবলার।’
সুইডিশ তারকা জøাতান ইব্রাহিমোভিচও মেসির জাদুতে মুগ্ধ। নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে জøাতান বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম-চোখ রাখো এবং উপভোগ করো। আমরা আজ ঠিক সেটিই করেছি। তারকায় ঠাসা একটা দিনে ওরাই আসল বিনোদন দিলো।’
ইংলিশ ফুটবল কিংবদন্তি এবং বিবিসির জনপ্রিয় ফুটবল পণ্ডিত অ্যালান শিয়েরার মেসির হ্যাটট্রিক গোলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিস্ময় লুকাতে পারেননি। প্রিমিয়ার লীগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা শিয়েরার লেখেন, ‘মেসিইইইইইইইইইই! ওয়াও!!’

ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক তারকা নেদুম ওনুওহা এটিকে ফুটবলপ্রেমীদের সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে মেসির এই ফুটবল দেখাটা সৌভাগ্য। ২০ বছর আগে যে ছেলেটি প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেছিল, আজ দুই দশক পরও তার এই ধার বজায় থাকাটা অবিশ্বাস্য।’
ইএসপিএন-এর বিশ্লেষক আলেহান্দ্রো মোরেনো হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে ফেরা মেসির শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ছিল মেসির রক্ষণাত্মক মনোভাব। ও নিজের ডি-বক্সের কাছাকাছি এসে ওয়ান-টু-ওয়ান পজিশনে বল কাড়ছিল, যা সাধারণ মেসি-সুলভ চিত্রনাট্যে থাকে না। আর আক্রমণে তো ও এখনো নিখুঁত। ও মাঠে থাকা মানেই সতীর্থ ও গ্যালারি নড়েচড়ে বসে যে এখনই একটা গোল বা অ্যাসিস্ট হতে যাচ্ছে। যখন কেউ পাস নেয়ার জন্য ফাঁকা থাকে না, ও নিজেই সব সামলে নেয়।’

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটে আর্লিং ব্রট হালান্দ মেসিকে ‘উন্মাদ ফুটবল জিনিয়াস’ হিসেবে আখ্যা দেন। অবশ্য প্রশংসার জোয়ারের মাঝেও গোল ডটকমের বিশ্লেষকরা আলজেরিয়ার আইসা মান্দির সঙ্গে মেসির একটি সংঘর্ষের ঘটনা তুলে ধরেছেন। কিছু ফুটবলারের মতে, ট্যাকলটি লাল কার্ড পাওয়ার যোগ্য হলেও, রেফারি মেসির ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় ছিলেন।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন