আমিও আছি

হালান্দ জানান দিলেন

আমিও আছি

ফন্ট সাইজ:

রাতে জোড়া গোল করে মেসিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন কিলিয়েন এমবাপ্পে। সকালে হ্যাটট্রিক করে ১৬ গোল নিয়ে মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে বিশ্বকাপে শিখরে পৌঁছেগেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এই দুই তারকার ভিড়ে জোড়া গোল করে নিজের আগমনী বার্তা দিলেন নরওয়ের আর্লিং ব্রুট হালান্দ। বাছাইপর্বে ১৬ গোল করে নরওয়েকে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে এনেছিলেন এই তারকা। এবার ইরাকের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেক রাঙালেন দুই গোল করে। মূলত তার জোড়ায় ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়েছে নরওয়ে। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া বিশ্বকাপে বাবা আলফ ইঙ্গে হালান্দ নরওয়ের জার্সি গায়ে খেলেছিলেন। মার্কিন মুল্লুকে তিন দশক পর পুত্র হালান্দ হলেন নরওয়ের জয়ের রূপকার।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ক্লাব ফুটবলে একের পর এক রেকর্ড গড়া হালান্দ বড় মঞ্চে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজেকে প্রমাণের অপেক্ষায় ছিলেন। সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটে বোস্টনে।

ইরাকের বিপক্ষে ২৯ মিনিটে ডেভিড মোলারের ক্রস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে নিজের বিশ্বকাপ গোলখাতা খোলেন তিনি। এর মাধ্যমে নরওয়ের হয়ে টানা ১১ ম্যাচে গোলের দেখা পান হালান্দ। ৩৮ মিনিটে ইরাক সমতায় ফিরলেও, ৪৩ মিনিটে জোড়া পূর্ণ করে নরওয়েকে আবারো লিড এনে দেন এই ম্যানসিটি তারকা। এ গোলে নরওয়ের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে জোড়া গোল করার রেকর্ড গড়েন ২৫ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ড। এর আগে বিশ্বকাপের আট ম্যাচে প্রথমার্ধে দুই গোল করতে পারেনি নরওয়ে। প্রথমার্ধে দুই গোল করা হালান্দের সুযোগ ছিল আরেকটি ইতিহাসের। এবারের বিশ্বকাপে তিনি প্রথম হ্যাটট্রিক করতে পারতেন। সেই সুযোগও এসেছিল। দ্বিতীয়ার্ধে একাধিকবার গোলের সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। সবচেয়ে সহজ সুযোগটা আসে ৮৩তম মিনিটে। ইরাকের গোলরক্ষক জালাল হাসানকে বক্সের ডানদিকে একা পেয়ে যান হালান্দ।

সেখান থেকে জোরে শটও নেন। কিন্তু গোলরক্ষক কোনোমতে বলটা বাঁচিয়ে দেন। হ্যাটট্রিক না পাওয়ার আফসোস থাকলেও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন হালান্দ। ৭৬ মিনিটে তার বাড়ানো বল থেকে গোল করে দলের তৃতীয় ও বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেন অস্টিগার্ড। ম্যাচের ইনজুরি টাইমে আত্মঘাতী গোল করেন ইরাকের আয়মেন হুসেন। এ গোলেও হালান্দের ভূমিকা ছিল। তার হেডার ফেরাতে গিয়ে তিনি আয়মেন নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ইরাকের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে। এ ম্যাচের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে এই প্রথম নরওয়ে কোনো ম্যাচে তিন বা ততোধিক গোলে জয় পেলো। এছাড়া এবারের বিশ্বকাপে এটি এশিয়া মহাদেশের কোনো দলের প্রথম হার। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ ফুটবলে ফিরেই জয় তুলে নিলো নরওয়ে। এর আগে ১৯৩৮ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ৫৬ বছর বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে পারেনি তারা। সেবার ফিরেও তারা প্রথম ম্যাচে ওয়াশিংটন ডি.সি.তে

মেক্সিকোর বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছিল। এবারের প্রত্যাবর্তনটাও হলো দারুণভাবে। ইউরোপের বাইরের দলগুলোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে টানা ৪ ম্যাচে অপরাজিত রইলো নরওয়ে। এদিন রেকর্ডগড়া পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন হালান্দ। ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম গোলটি ছিল দারুণ, আর দ্বিতীয়টি ছিল আরও চমৎকার! তাই এটি সত্যিই দুর্দান্ত এক অনুভূতি। আমি দলের সবার জন্য গর্বিত যে আমরা বিশ্বকাপের শুরুটা ভালোভাবে করতে পেরেছি। তবে আমরা জানি, পরের ম্যাচগুলো আরও কঠিন হবে এবং আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে। আমাদের কাছে জয়ের প্রত্যাশাই ছিল এবং সৌভাগ্যবশত আমরা জিতেছি। এখন নরওয়ের সবাই নিশ্চয়ই খুশি হবে, আমি আশা করি সবাই আজ উদ্যাপন করবে!’


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন