৬৮ বছর পর একই ঘটনা

ফন্ট সাইজ:

অপেক্ষার চার বছর। মাঠে গড়িয়েছে বিশ্বকাপ। ফুটবল জাদুতে মাতোয়ারা তামাম দুনিয়া। অলোচনায় কারা জিতবে বিশ্বকাপ। কে জিতবে গোল্ডেন বুট। এবারের রেকর্ডের ঝুলিতে কারা থাকবে শীর্ষে। কার রেকর্ড কে ভাঙবে। মেসি, নেইমার, রোনালদো, এমবাপ্পের বাইরে জ্বলে উঠবেন কারা? কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে সব নাটকীয়তাকে ভেঙে দিয়েছে একটি তারিখ। আর তা হলো ১৫ জুন। ফুটবলের ইতিহাসের এই দিনটি একেবারেই অন্যরকম। এটাকে কাকতালীয় বললেও কম বলা হবে। এ দিন চার চারটি হাই ভোল্টেজ ম্যাচের সবকটি হয়েছে ড্র। আর তা ঘটেছিল ঠিক ৬৮ বছর আগে ১৯৫৮ সালে। পরিসংখ্যানের পাতায় ঝড় তুলেছে দিনটি। দিন তারিখের হিসাবেও অবিশ্বাস্য মিল দিনটির। ১৯৫৮ সালের অনুষ্টিত বিশ্বকাপের সকল ম্যাচে ড্র হওয়ার তারিখ ছিল ১৫ জুন। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের দিনটিও যেনো সেভাবেই সাজানো। এ দিনটিও ১৫ জুন। বিশ্বকাপের অগুনতি রেকর্ডের খাতায় অবিস্মরণীয় হয়ে থাকলো দিনটি। ফিফা তার রেকর্ড বক্সে স্বর্ণাক্ষরে দিনটি লিপিবব্ধ করবে অন্তত ফুটবল উন্মাদ বিশ্ব যেনো তা ভুলে না যায়। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের ওপর কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ থেকে শুরু করে উরুগুয়ের আক্রমণ ঝড় সামলানো সৌদির প্রতিরোধ-সব মিলিয়ে পরিসংখ্যানের পাতায় ঝড় তুলেছে এই দিনটি। দিনের সেরা কিছু রেকর্ড মানবজমিন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

স্পেন ০-০ কেপ ভার্দে: তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া আক্রমণ
৭৩৪ বনাম ২০৫: স্পেন পুরো ম্যাচে পাস সম্পন্ন করেছে ৭৩৪টি, যেখানে কেপ ভার্দে করেছে মাত্র ২০৫টি। প্রতিপক্ষের অর্ধে পাসের ব্যবধান ছিল ৫৯৩-২২! ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের একক ম্যাচে প্রতিপক্ষের বক্সে সবচেয়ে বেশি টাচ ও পাসের রেকর্ড গড়েও গোল পায়নি স্পেন। তবে তারা ২৭টি শট নিয়েছে, যা তাদের ইতিহাসের যৌথ সর্বোচ্চ অনর্থক আক্রমণ।

১৮ বছর ৩৩৭ দিন: ইতিহাসের কনিষ্ঠতম ইউরোপিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে দুটি বড় টুর্নামেন্টে (ইউরো ২০২৪ ও ২০২৬ বিশ্বকাপ) খেলার রেকর্ড গড়লেন লামিন ইয়ামাল।

বেলজিয়াম ১-১ মিশর: সালাহর কীর্তি

৩৪ বছরের সালাহ: ঠিক ৩৪ বছর বয়সে অ্যাসিস্ট করে ১৯৯০ বিশ্বকাপে রজার মিলার পর সবচেয়ে বয়স্ক আফ্রিকান খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়লেন মোহাম্মদ সালাহ।

সৌদি আরব ১-১ উরুগুয়ে: আল-ওয়াইসের দেয়াল ও লাতিনদের খরা
৯টি সেভ: সৌদি আরবের গোলকিপার মোহাম্মদ আল-ওয়াইস উরুগুয়ের বিপক্ষে একাই ৯টি সেভ করেছেন, যা এই বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত একক ম্যাচে সর্বোচ্চ।

২য় সর্বোচ্চ ২৩ শট: ম্যাচের দ্বিতীয় হাফে উরুগুয়ে সৌদির বক্সে একাই ২৩টি শট নিয়েছে। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের এক অর্ধে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শটের রেকর্ড।

লাতিন আমেরিকার চারে শূন্য: উরুগুয়ের এই ড্রয়ের ফলে চলতি বিশ্বকাপে খেলা দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম ৪টি দেশের কেউই নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি।

ইরান ২-২ নিউজিল্যান্ড: এশিয়ার সেরা শুরু ও কিউইদের আক্ষেপ
এশিয়ার অপরাজেয় যাত্রা: প্রথম ম্যাচে এশিয়ার ৬টি দলের কেউই হারেনি। এটি এশিয়ান কনফেডারেশনের ইতিহাসে বিশ্বকাপের সেরা শুরু।

রামিনের জোড়া রেকর্ড: রামিন রেজায়িয়ান ইরানের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একই ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্টের অনন্য কীর্তি গড়লেন। সেই সঙ্গে ইরানের প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ডও এখন তার।

৭ ম্যাচের খরা: বিশ্বকাপে ৭টি ম্যাচ খেলেও নিউজিল্যান্ডের জয়ের খরা কাটলো না। তবে এলিজাহ জাস্ট নিউজিল্যান্ডের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে একাধিক গোল করার রেকর্ড গড়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন