আদিতমারী রণক্ষেত্র ডিসি-এসপি’র গাড়ি ভাঙচুর

শিশু হত্যার জের

আদিতমারী রণক্ষেত্র ডিসি-এসপি’র গাড়ি ভাঙচুর

ফন্ট সাইজ:

লালমনিরহাটে ৭ বছরের শিশু নন্দিনীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ গতকাল লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামের ভুট্টাক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ধর্ষক বিধান চন্দ্রকে অবরুদ্ধ করে তার বসতবাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত আসামিকে আটক করে। এ সময় পুলিশের কাছ থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাধে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে। অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, লালমনিরহাটের ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নলিনী কান্ত’র ৭ বছরের শিশু নন্দিনী। পাশের বাড়ির রঞ্জিতের মাদকাসক্ত ছেলে বিধান চন্দ্রের যাতায়াত ছিল। বিধান চন্দ্র গত সোমবার সন্ধ্যার পরে নন্দিনীর বাড়ির কাউকে না জানিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। বিধান চন্দ্রের বাড়ির লোকজনও টের পায়নি। শিশুটিকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে রাখে। শিশু নন্দিনীকে বাড়িতে না পেয়ে বাড়ির লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করে। না পেয়ে মাইকিংও করে। শেষে সোমবার রাতে নন্দিনীর নিখোঁজের ব্যাপারে আদিতমারী থানায় জিডি করতে যায় তার বাবাসহ লোকজন। আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল ইসলাম জিডি গ্রহণ না করে খারাপ ব্যবহার করেন। ওদিকে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় বিধান চন্দ্র নন্দিনীর বাড়ির পাশে ভুট্টাক্ষেত থেকে বের হয়। ওই সময় এলাকার এক মহিলা বিধানকে কোদাল হাতে ভুট্টাক্ষেত থেকে বের হতে দেখতে পায় এবং ভুট্টাক্ষেতের ভেতরে নরম মাটি দেখতে পায়।

সে নরম মাটি খুঁড়ে দেখে বস্তাবন্দি কোনো কিছু। পরে তার চিৎকারে এলাকার লোকজন ভুট্টাক্ষেতে গিয়ে নন্দিনীর বস্তাবন্দি গলাকাটা লাশ দেখতে পায়। ভুট্টাক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। গ্রামবাসীরা বিধান চন্দ্রকে খুঁজতে তার বাড়ি গিয়ে দেখে সে ঘরে তালা লাগিয়ে ভেতরে লুকিয়ে আছে। খবর পেয়ে আদিতমারী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিধানকে উদ্ধার করার চেষ্টা করে। জানা গেছে, মাদকাসক্ত বিধান চন্দ্র কাউকে না জানিয়ে নন্দিনীকে তার বাড়ি থেকে বিস্কুট খাওয়ার লোভ দেখিয়ে নিয়ে আসে। বিধান তার বাড়িতে রাতে অজ্ঞান করার ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করে। অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে হত্যা করে গলা কাটে। পরে তাকে ভুট্টাক্ষেতে পুঁতে রাখে। ওদিকে থানায় জিডি না নেয়ায় ও পুলিশ খারাপ ব্যবহার করায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী পুলিশের উপর চড়াও হয়। পুলিশকে আঘাত করে বিধানকে ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্য হত্যার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আরও অতিরিক্ত পুলিশ গিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।

ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বিধান চন্দ্রের বাড়ি ভাঙচুর চালায়। অগ্নিসংযোগ করে ধর্ষকের বাড়ি। পুরো এলাকা উত্তেজিত হয়ে ওঠে ধর্ষকের বিচারের দাবিতে। পরিস্থিতির ব্যাপকতায় ঘটনাস্থলে বিজিবি আসে। আসে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান। পরে জেলা প্রশাসক লোকজনের কাছে অভিযোগ শুনে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা বলেন। শান্ত হয়ে যায় এলাকা। পুলিশ ধর্ষক বিধানকে নিয়ে যাওয়ার সময় আবারো ধাওয়া করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। লাঠিসোটা নিয়ে ভাঙচুর করে জেলা প্রশাসক এবং পুলিশের গাড়িসহ কয়েকটি গাড়ি। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। কঠোর প্রহরায় আসামিকে নেয়া হয় লালমনিরহাটে। এ ঘটনার পরেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিশু নন্দিনীর পিতা নলিনি কান্ত জানান, আমার মেয়েকে যে হত্যা করেছে তার বিচার চাই। তার ফাঁসি চাই। পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুলিশের ওসিকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। যদি ওসির কোনো গাফিলতি থাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন