রোনালদোকে কি সত্যিই কাঁদাবে কঙ্গো

পর্তুগালের মিশন শুরু আজ

রোনালদোকে কি সত্যিই কাঁদাবে কঙ্গো

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপের ট্রফিটা যেন পর্তুগালের এক অধরা প্রেম। এত এত প্রতিভার ছড়াছড়ি। তবু সোনালি স্পর্শটা পাওয়া হয়নি কখনো। আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো? ফুটবলের প্রায় সব শিখর জয় করেছেন। ইউরোপ জিতেছেন। গোলের পর গোলে ভেঙেছেন সর্বকালের রেকর্ড। অধরা শুধু বিশ্বকাপটাই। ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর নিজের ষষ্ঠ আসরে শেষ সুযোগ। হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ‘কে’ গ্রুপের লড়াইয়ে রাত ১১টায় নামছে পতুর্গাল। অন্যদিকে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ডিআর কঙ্গোর নতুন ইতিহাস লেখার আকাঙ্ক্ষা। কঙ্গো বাছাই প্লে-অফ জয়ে বিশ্বকাপের টিকিট কাটার পরেই দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী দিদিয়ের বাদিম্বু বলেছিলেন, ‘আমাদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে কাঁদতে হবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে।’

বিশ্বকাপের ইতিহাসে পর্তুগাল পরিচিত মুখ। ১৯৬৬ সালে তৃতীয় হওয়া থেকে শুরু করে ২০০৬ সালে সেমিফাইনাল- বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে তারা বহুবার। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ ইতিহাস মাত্র এক আসরের। ১৯৭৪ সালে জায়ার নামে অংশ নিয়েছিল দলটি। এরপর অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় অপেক্ষার পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে আফ্রিকার দেশটি।

দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার ইতিহাস নেই। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এই প্রথমবার দেখা হচ্ছে তাদের। ফলে অতীতের পরিসংখ্যানের চেয়ে বর্তমানের শক্তি ও আত্মবিশ্বাসই হয়ে উঠবে বড় ফ্যাক্টর। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের পঞ্চম সেরা দল পর্তুগাল। বাছাই পর্বে ধারাবাহিক ফুটবল খেলেছে কোচ রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনহা, বারনার্দো সিলভাদের নিয়ে মাঝমাঠ তাদের অন্যতম বড় শক্তি। আক্রমণে আছে অভিজ্ঞতা ও গতি। র‌্যাঙ্কিংয়ে ৪৬ নম্বরে থাকা ডিআর কঙ্গোও কিন্তু হালকাভাবে নেয়ার মতো দল নয়। ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়েন দিসাবরির অধীনে আফ্রিকান বাছাইপর্বে তারা সংগঠিত ফুটবল খেলেছে। শক্ত রক্ষণ আর দ্রুত পাল্টা আক্রমণই তাদের মূল অস্ত্র। সেবাস্তিয়েনের রেকর্ডটাও ফেলে দেওয়ার মতো নয়। ৪৮ ম্যাচে ২৭ জয়ের বিপরীতি ১০ হার ও ১১ ড্র। বেশিরভাগ সময় তিনি ৪-৩-৩ অ্যাটাকিং ফরমেশনেই খেলাতে পছন্দ করেন দলকে। কঙ্গোকে হালকাভাবে নেবে না পর্তুগালও। কোচ মার্টিনেজ এক সাক্ষাতকারে বলেন, ‘আমাদের ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে হবে। প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আমাদের সর্বস্ব উজার করে দেবো। পুরো পর্তুগিজ জাতির স্বপ্ন বহন করছি।’

রোনালদোর ফিটনেস ‘ফটোশপ’ নয়
বিশ্বকাপে রওনা হওয়ার আগে রোনালদো আত্মবিশ্বাসী কন্ঠে বলেন, ‘প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। আমি ইতিবাচক এবং শারীরিকভাবে ফিট রয়েছি। আশা করি দারুণ কিছু করতে পারবো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রথম ম্যাচ।’ আর রোনালদোর ফিটনেসের প্রশংসা করলেন তার সতীর্থ ভিতিনহাও। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাকে গ্যারান্টি দিতে পারি এটা কোনো ফটোশপ নয়। অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো সে ৪১ বছর বয়সী। কিন্তু ২৬ বছর বয়স হলেও আমি তার মতো নই। এটা প্রমাণ করে সে দলের জন্য কতটা নিবেদিত প্রাণ এবং ভালো অবস্থায় থাকা তার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

চোখ থাকবে যাদের ওপর
পর্তুগালের সবচেয়ে বড় ভরসা ব্রুনো ফার্নান্দেজ। ম্যাচের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে শেষ প্রান্ত- সবখানেই তার প্রভাব। আর রোনালদোর বয়স বাড়লেও গোলের ক্ষুধা কমেনি একটুও। ২০১৪ সালে এই কঙ্গোর বিপক্ষে জোড়া গোল করেই পর্তুগালের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হয়েছিলেন রোনালদো। আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে তার রেকর্ড বেশ ভালো। গত আসরে করা একমাত্র গোলটি তিনি পেয়েছিলেন মরক্কোর বিপক্ষে। সবমিলিয়ে আফ্রিকানদের বিপক্ষে ৯ ম্যাচে ৭ গোল সিআরসেভেনের।

ডিআর কঙ্গোর এক্স-ফ্যাক্টর ইয়োয়ানে উইসা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে নিজেকে প্রমাণ করা এই ফরোয়ার্ড এক মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। রিয়াল বেটিসের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সেড্রিক বাকাম্বুও হতে পারেন আফ্রিকানদের তুরুপের তাস। বিশেষ নজরে থাকবেন বার্নলি ডিফেন্ডার আলেক্স তুয়ানজেবে। জ্যামাইকার বিপক্ষে বাছাই প্লে-অফে তুয়ানজেবের গোলেই ৫২ বছরের আক্ষেপ ঘুচায় ডিআর কঙ্গো।

সম্ভাব্য একাদশ
পর্তুগাল (৪-২-৩-১): কস্তা, ক্যানসেলো, রুবেন দিয়াজ, গঞ্জালো ইনাসিও, নুনো মেন্ডেজ, জোয়াও নেভেস, ভিতিনহা, বার্নারদো সিলভা, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, নেতো, রোনালদো।
ডিআর কঙ্গো (৪-৪-২): লিওনেল এমপাসি, অ্যারন ওয়ান-বিসাকা, কাপুয়াদি, শ্যান্সেল এমবেম্বা, অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে, আর্থার মাসুয়াকু, স্যামুয়েল মুতুসামি, সাদিকি, ইয়োয়ানে উইসা, মাকাও, সেড্রিক বাকাম্বু।

ম্যাচ গোল অ্যাসিস্ট
রোনালদো ২২৮ ১৪৩ ৪৬

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন