মস্কোর হিসাব কি ডালাসে চুকাতে পারবে কেইনরা

মুখোমুখি ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া

মস্কোর হিসাব কি ডালাসে চুকাতে পারবে কেইনরা

ফন্ট সাইজ:

মস্কোতে আলো ঝলমলে রাতটা হতে পারতো ইংল্যান্ডের। শুরুতে এগিয়ে ছিল তারাই। এরপর ছন্দপতন। ক্রোয়েশিয়ার প্রত্যাবর্তনে ১৯৬৬ সালের পর ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেস্তে গেল থ্রি লায়ন্সদের। আট বছর আগের ওই সেমিফাইনাল হারের দুঃস্মৃতি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন হ্যারি কেইনরা। তবে ক্ষতে প্রলেপ দেয়ার সুযোগ এসেছে। ‘এল’ গ্রুপে আগামীকাল রাত ২টায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড। ডালাসে মস্কোর বদলা হবে নাকি আরও একবার হাসবে লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়া! সময়ের সেরা স্কোয়াড নিয়েও কোনো এক জুজুতে আটকে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের ট্রফি স্বপ্ন। কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে টানা দু’বার ইউরো রানার্সআপ হয় তারা। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও গত আসরে বাদ পড়ে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে।

নতুন কোচ টমাস টুখেল তাই নিজেদের ফেভারিট মনে করতে চাইছেন না। জার্মান তালিসম্যান বলেন, ‘আমরা যেহেতু বড় কিছু জিতিনি তাই ফেভারিট মানতে পারছি না। টুর্নামেন্টে অনেক পরীক্ষিত বিজয়ী দল রয়েছে। তারাই ফেভারিট। আমরা জিততে চাই। কিন্তু শান্ত থাকছি।’ ২০১৮তে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলেও এবার খুব একটা আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছেন না জ্লাতকো দালিচ। ক্রোয়াট কোচ মনে করেন, প্রথম ম্যাচটা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে না হয়ে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ হলে বরং ভালো হতো। দালিচের দুশ্চিন্তার আরেক নাম ইনজুরি। প্রাণভোমরা লুকা মদরিচ, মাতেও কোভাসিচ এবং ইয়োসকো ভার্দিওলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা পুরোপুরি ফিট নন। তবে দালিচের আশা ম্যাচের আগে ফিটনেস ফিরে পাবেন তারা। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দলে তেমন চোট সমস্যা নেই। যদিও বুকায়ো সাকাকে নিয়ে কিছুট অস্বস্তি রয়েছে। অ্যাকিলিসের চোট পুরোপুরি সারেনি। তবু আর্সেনাল তারকা মাঠে নামার জন্য তৈরি। সংবাদমাধ্যমকে সাকা বলেন, ‘গত মার্চ থেকে অনেকটা ভালো বোধ করছি।

কখনো কখনো ঝুঁকি নিতেই হয়। মানুষ চায় পারফরম্যান্স। আমি ঝুঁকিটা নিতে প্রস্তুত।’ সাকা শুরুর একাদশে না থাকলে রাউট উইংয়ে সুযোগ পেতে পারেন টনি মাদুয়েকে। লেফট উইংয়ে টুখেলের কাছে বেশ কয়েকটি অপশন আছে। অ্যান্থনি গর্ডন, মার্কাস রাশফোর্ড বার রজার্সের মধ্যে যেকোনো একজনকে বেছে নিতে পারেন তিনি। তবে জুড বেলিংহামের থাকা নিশ্চিত। হোল্ডিং মিডে ডেক্লান রাইসের সঙ্গে অ্যান্ডারসন। রক্ষণে ও’রাইলি, মার্ক গুয়ে, কনসা আর রিস জেমস। সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন জানাচ্ছে, ক্রোয়েশিয়ার সম্ভাব্য একাদশ হতে পারে: গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচের সামনে ইয়োসিপ স্তানিসিচ, ইয়োসিপ সুলাতো, লুকা ভুসকোভিচ, ইয়োসকো ভার্দিওল। মাঝমাঠে লুকা মদ্রিচ-মাতেও কোভাসিচ জুটি। অ্যাটাকিং মিডে মারিও পাসালিচ, আন্দ্রে ক্রামারিচ ও ইভান পেরিসিচ। স্ট্রাইকার হিসেবে থাকতে পারেন আন্তে বুদিমির।

দ্বৈরথ জমবে যাদের
ম্যাচের বড় আকর্ষণ হবে বেলিংহাম-মদরিচ দ্বৈরথ। ৪০ বছরের ঝানু মদরিচের সামনে তরুণ বেলিংহাম কতটা দ্যূতি ছড়ান তা দেখতে মুখিয়ে বিশ্ব। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স বলছে, এ দু’জনের দ্বৈরথেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। অন্যদিকে গত আসরের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার ভার্দিওল সামলাবেন ইনফর্ম হ্যারি কেইনকে। মাঝমাঠে রাইস বনাম কোভাচিচের লড়াইটাও জমবে। দুই প্রজন্মের দুই উইংগার পেরিসিচ ও সাকার ড্রিবলে পাল্টে যেতে পারে ম্যাচের গতিপথ। আর ডাগআউটে টুখেল-দালিচের ট্যাকটিকস যুদ্ধটাও হবে উপভোগ্য। হেড টু হেড লড়াইয়ে ৬ জয় নিয়ে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। সবশেষ ২০২০ ইউরোতে মুখোমুখি হয়েছি তারা। সেবার ১-০ গোলে জেতে ইংল্যান্ড।

হেড টু হেড
জয় হার ড্র
ইংল্যান্ড ৬ ৩ ২
ক্রোয়েশিয়া ৩ ৬ ২

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন