ঘুরে দাঁড়াবে ব্রাজিল

ঘুরে দাঁড়াবে ব্রাজিল

ফন্ট সাইজ:

দারুণ রোমাঞ্চকর আর নানা সব চমক দিয়ে শুরু হয়েছে এবারের ফিফা বিশ্বকাপ। তবে মাঠের খেলায় পরাশক্তিদের শুরুর লড়াই কোটি ভক্তের মনে ছড়িয়ে দিয়েছে হতাশা। বিশেষ করে হেক্সা মিশনের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স ছিল বিবর্ণ। মরক্কোর গতিশীল ফুটবলের সামনে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ছিল দিশাহারা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত গোলও ঢাকতে পারেনি সেলেসাওদের সমন্বয়হীনতা। প্রথম ম্যাচেই আফ্রিকার সিংহদের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে তারা। মাঠের এই ছন্নছাড়া রূপ দেখে বাংলাদেশ ফুটবলের সাবেক তারকা মোহাম্মদ মামুনুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ‘ব্রাজিল ও মরক্কোর ম্যাচ দেখে মনে হয়েছে মরক্কো ব্রাজিলের চেয়ে বেটার খেলেছে।

ব্রাজিলের যদি চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করতে হয়, তবে আরও ভালো ফুটবল খেলতে হবে।’ কেবল ব্রাজিল নয়, ফেভারিট স্পেনের গোলশূন্য ড্র এবং বেলজিয়ামের ১-১ গোলে পয়েন্ট হারানোর ঘটনা বিশ্বমঞ্চে বড় ধাক্কা। প্রথম রাউন্ডের এই ম্যাচগুলো বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, আন্ডারডগ বা ছোট দলগুলো এখন বড়দের সঙ্গে বুক চিতিয়ে লড়ছে। লো-ব্লক কৌশলে বড় দলগুলোর আক্রমণভাগকে বোতলবন্দী করে ফেলছে তারা। ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন প্রথম ম্যাচেই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এই বিবর্ণ সূচনার পর নকআউটের সমীকরণ বেশ কঠিন হবে। সবশেষ মাঠে গড়ানো ৪টি ম্যাচই অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়েছে।

ফেভারিট স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়েছে বিশ্বকাপে প্রথম সুযোগ পাওয়া কেপ ভার্দে। একই দিনে ইউরোপের পরাশক্তি বেলজিয়ামকে ১-১ গোলে আটকে দিয়েছে মিশর। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে চমক দেখিয়েছে সৌদি আরব। বড় দলগুলোর এমন পয়েন্ট হারানোর মহোৎসবে কেবল জার্মানিই ব্যতিক্রম। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা শক্তির জানান দিয়েছে। এছাড়া মেক্সিকো ২-০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এবং সুইডেন ৫-১ ব্যবধানে তিউনিসিয়াকে হারিয়েছে। নেদারল্যান্ডস ও জাপানের ম্যাচটি ২-২ গোলে সমতায় শেষ হয়েছে। ইউএসএ ঘরের মাঠে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে শক্তিশালী প্যারাগুয়েকে। মামুনুল বলেন, ‘ইউরোপিয়ানরা কোনো কোনো জায়গায় আটকে যাচ্ছে, লাতিনরাও খুব বেশি ভালো করেনি। তবে এবার এশিয়ানরা ভালো করছে। আসলে গতকাল যে ৪টি ম্যাচ ড্র হয়েছে স্পেন বাদে বাকি সব দলই কিন্তু ফিফটি-ফিফটি।’ বড় দলগুলোর জয়হীন থাকার এই বৈচিত্র্য ফিফা আসরের আসল সৌন্দর্য শেষ দিন পর্যন্ত ধরে রাখবে বলে মনে করেন মামুনুল। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের সৌন্দর্য হলো শেষ পর্যন্ত আপনাকে গ্রুপ পর্বের জন্য অপেক্ষা করতে হবে যে কারা পরের রাউন্ডে যাবে। দর্শকদের স্নায়ুচাপ নকআউট নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত থাকবে নিশ্চিতভাবে।’

হলুদ শিবিরের হতাশাজনক খেলা নিয়ে ভক্তদের মাঝে বেশ সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোচ কার্লো আনচেলত্তির মাস্টারমাইন্ড কৌশলে ব্রাজিল নিজেদের খোলস ছেড়ে বের হতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। আনচেলত্তির কৌশল প্রসঙ্গে মামুনুল বলেন, ‘দেখেন, কোচিং স্টাফ চেঞ্জ হয়েছে। মাস্টারমাইন্ড আনচেলত্তি দায়িত্ব নিয়েছেন। ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব কিছু না, তবে ফাইনাল খেলা খুবই ডিফিকাল্ট।’ বিপরীতে, দক্ষিণ কোরিয়া বা ইউএসএ যেভাবে দুর্দান্ত খেলছে, তাতে লাতিন পরাশক্তিদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। নইলে আন্ডারডগদের সামনে নাকানিচুবানি খেতে হবে তাদের। এই চাপ কাটিয়ে তারা কীভাবে ফিরবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। এখন অবশ্য চাপ কিছুটা কম, কারণ অনেক গ্রুপ থেকে তিনটা দল যাবে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন