রেফারির বর্ণবাদী ইশারার অভিযোগ তদন্তে ফিফা

ফন্ট সাইজ:

জার্মানি ও কুরাসাও ম্যাচের আগে সরাসরি সম্প্রচারের সময় ক্যামেরার সামনে বিতর্কিত এক অঙ্গভঙ্গি করে বির্তকের জন্ম দেন অস্ট্রেলিয়ান ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) শন ইভান্স। তার এই কাণ্ডকে বর্ণবাদী প্রতীক হিসেবে দেখছে এন্টিডিসক্রিমিনেশন সংস্থাগুলো। ঘটনার পর ফিফা একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং শন ইভান্সের কাছে এই ইশারার ব্যাখাও চাওয়া হয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা না দেয়া হলেও, সমপ্রচারিত ফুটেজ ও ঘটনার প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখছে ফিফা।

ডালাসে অবস্থিত ব্রডকাস্টিং সেন্টারে কর্মরত ভিএআর দলের দিকে যখন ক্যামেরা ঘোরে, তখন শন ইভান্সকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। ক্যামেরার সামনে তিনি প্রায় আট সেকেন্ড ধরে ডান হাত দিয়ে এক বিশেষ ভঙ্গি করেন তিনি। যেখানে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী মিলে একটি বৃত্তের মতো তৈরি করে এবং বাকি আঙুলগুলো প্রসারিত ছিল। লাইভ সমপ্রচারে দৃশ্যটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইশারাটি মূলত ‘ওকে’ চিহ্নের মতো দেখালেও এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখন আলোচনার কেন্দ্রে। অ্যান্টি-ডিফামেশন লীগের (এডিএল) তথ্যমতে, এই বিশেষ ভঙ্গিটি অনেক সময় উগ্র শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী বা চরমপন্থীরা তাদের আদর্শিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। যদিও অনেকে একে সাধারণ ‘সার্কেল গেম’ নামক এক ধরনের মজার খেলা হিসেবেও চালিয়ে দেন। কিন্তু বৈশ্বিক মঞ্চে এই ইশারার দ্বৈত অর্থ ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফিফার দীর্ঘদিনের এন্টি ডিসক্রিমিনিশন অংশীদার ‘ফেয়ার নেটওয়ার্ক’ ইভান্সকে টুর্নামেন্ট থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ইভান্সের এই ভঙ্গিটি ‘হোয়াইট পাওয়ার’ বা নব্য-নাৎসি প্রতীকেরই প্রতিফলন। এই বিতর্কের জেরে কিছু সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান এখন থেকে ভিএআর প্যানেলের সরাসরি পরিচিতি পর্ব এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন