সিলেট-সুনামগঞ্জ নৌপথে চাঁদাবাজি, হামলা ও শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ না হলে কর্মবিরতিতে যাবে বাল্কহেড শ্রমিকরা। মঙ্গলবার বিকালে সিলেট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেয় বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন গোয়াইনঘাট শাখার শ্রমিক নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়Ñ সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চল থেকে বালু, পাথর ও কয়লা দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন নৌবন্দরে পরিবহন করে থাকেন বাল্কহেড শ্রমিকরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও প্রতিনিয়ত তারা চাঁদাবাজি, হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ১৩ই জুন গোয়াইনঘাটে পানি বৃদ্ধির সময় বালু আনতে গেলে একদল চাঁদাবাজ শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এবং শ্রমিকরা আলোচনায় বসেন। পরদিন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলাকালে গোয়াইনঘাটের আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ট্রলারযোগে এসে লাঠিসোটা নিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, হামলার ঘটনায় অভিযোগ জানাতে গোয়াইনঘাট থানায় গেলে পুলিশ তাদের সহযোগিতা না করে থানা প্রাঙ্গণ থেকে চলে যেতে বলে। পরে ছাতকের নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এবং গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও শ্রমিকরা কোনো ধরনের আইনগত সহায়তা পাননি।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ১৫ই জুন রাতে একটি চক্র পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রতি বাল্কহেড থেকে ৫ হাজার টাকা, ইউনিয়ন ট্যাক্সের নামে ২ হাজার টাকা এবং অন্যান্য খাতে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে। এ ছাড়া গোয়াইনঘাট থেকে ছাতক পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বিআইডব্লিউটিএ’র নামে চলন্ত নৌযান থেকে পারফুট হিসেবে অর্থ আদায় করা হয়। সালুটিকর ও বাধাঘাটের মধ্যবর্তী এলাকায় শ্রমিকদের মারধর করে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায়েরও অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. সুমন। শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনÑ মো. রাসেল, মো. সোহেল, শেহিন, মো. জামাল, মো. ফারুক প্রমুখ।
