ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে পুরো শরণখোলা এখন যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে, হাতে রঙিন পতাকা আর মুখে সেøাগান ও বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র বাজিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, হাট-বাজার থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত সর্বত্রই বইছে বিশ্বকাপের উন্মাদনার ছোঁয়া। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে শরণখোলায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্যোগে একটি বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন শত শত যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণী ও বিভিন্ন বয়সী ফুটবলপ্রেমী।
তাদের হাতে ছিল পতাকা, ব্যানার ও প্রিয় খেলোয়াড়দের ছবি সম্বলিত ফেস্টুন। পুরো শোভাযাত্রা জুড়ে চলে সেøাগান, বাঁশির শব্দ ও আনন্দ-উল্লাস।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহে ব্রাজিল সমর্থকরাও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও শোডাউনের মাধ্যমে নিজেদের সমর্থনের জানান দেন। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারা বিশ্বকাপের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে চলছে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, হোটেল-রেস্তরাঁ, অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার এবং বিভিন্ন আড্ডাস্থলে এখন বিশ্বকাপই আলোচনার প্রধান বিষয়। খুদে ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে নেই। অনেকেই তাদের পছন্দের দলের জার্সি পরে প্রিয় দলের বিজয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও বিশ্বকাপ ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন দেশের সমর্থক থাকলেও শরণখোলায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংখ্যাই বেশি। ফলে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে চলছে মজার ছলে বাকযুদ্ধ, খুনসুটি ও যুক্তি-তর্ক। তবে এসবই হচ্ছে উৎসবের আমেজে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ।
এদিকে এক দলের সমর্থক অন্য দলের সমর্থকদের নিজেদের পক্ষে টানতে নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক সমর্থক দুধে গোসল করে কেউ আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিলে, কেউ ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় যোগদান করেছে বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে পোস্ট, ট্রল, মন্তব্য আর তর্ক-বিতর্কের পাল্টাপাল্টি লড়াই। বিশ্বকাপ ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে খেলা উপভোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের মতে, বিশ্বকাপ শুধু একটি খেলা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি সৃষ্টি করছে।
