দৌলতপুরে দুই সপ্তাহে সাপের দংশনে আক্রান্ত ৮, মৃত ১

দৌলতপুরে দুই সপ্তাহে সাপের দংশনে আক্রান্ত ৮, মৃত ১

ফন্ট সাইজ:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাপের দংশনে ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে মাত্র ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের শশীধরপুর গ্রামে ৩ জন নারীকে সাপে দংশন দেয়। এর আগের দিন রোববার একই গ্রামের সিয়াম (১২) নামে এক শিশু বিষাক্ত সাপের দংশনে মারা যায়। এ ছাড়াও সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন একই গ্রামের সোলাইমান হোসেনের স্ত্রী মাসেদা খাতুন (৩৬), নাহিদুল ইসলামের স্ত্রী বীথি খাতুন (২৬), মহাসিন আলীর স্ত্রী বিলকিস আরা (৪৯) এবং রিফাত আলীর ছেলে সিয়াম (১২)।

সিয়াম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ২রা জুন থেকে দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪ জন সাপের দংশন নিয়ে ভর্তি হোন। এদের মধ্যে বৈরাগীরচর এলাকার তাহের আলীর ছেলে ইন্তাজ আলী (৫৩), চককৃষ্ণপুর গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে আল আমিন (২১), মতিউর রহমানের মেয়ে তাইবা (১০) এবং বাহিরমাদী গ্রামের আসিত হোসেনের স্ত্রী লিপিয়ারা খাতুন (২২)। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শশীধরপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে।

রোববার রাতে শশীধরপুর মাঠসংলগ্ন ডিপপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় সিয়ামকে সাপে দংশন দেয়। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও রাত ১টার দিকে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সকালে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত আরএমও) ডা. মোছা. দিলরুবা ইয়াসমিন জানান, গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালে মোট ৮জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে সিয়াম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। সাপের দংশনে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে চিকিৎসা কেন্দ্রে নেয়ার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন