নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আনোয়ার হোসেন নামের কুয়েত ফেরত এক প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার ওয়াহেদ আলী বেপারী বাড়ির মৃত মফিজ উল্ল্যার ছেলে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও বাড়ির অন্য সদস্যরা জানান, ৫-৬ মাস পূর্বে তার স্ত্রী আকলিমা আক্তার রিতা একই বাড়ির আব্দুল মালেকের নাতি আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে পরকীয়ার জেরে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় আনোয়ারের স্বজনরা থানায় একটি জিডি করে।
কুয়েত প্রবাসী আনোয়ার হোসেন এই খবর পেয়ে তড়িঘড়ি করে বিদেশ থেকে গত মে মাসের ২৫ তারিখ দেশে ফেরেন। পরে স্ত্রী আকলিমাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। স্ত্রীকে না পেয়ে বাড়ির স্বজনদের জানান তার প্রবাসের কষ্টার্জিত সকল অর্থ ও সম্পদ তার স্ত্রীর কাছে গচ্ছিত ছিল। যা আকলিমা চলে যাওয়ার সময় নিয়ে গিয়েছে। তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন। বাড়ির লোকজন জানায়, গত ২-৩ দিন পূর্বে স্ত্রীর পাঠানো তালাকনামা হাতে পায় আনোয়ার। পরে তিনি বিমর্ষ হয়ে পড়েন। তালাক হাতে পাওয়ার পর থেকে তাকে নীরব থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। তবে আজকে সকালে স্বাভাবিকভাবে নাস্তা করেছেন। এরপরই কীভাবে একটা মানুষ আত্মহত্যা করেন সেই প্রশ্ন তোলেন তারা।
নিহতের বড় বোন মনোয়ারা বেগম পার্শ্ববর্তী বাসায় ভাড়া থাকার সুবাদে ভাইয়ের খোঁজখবর রাখতেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় প্রতিবেশীর পাঠানো নাস্তা খেয়ে ঘরে বসে ছিলেন আনোয়ার। সকাল ১১টার দিকে ভাইকে ফোন দিলে কল রিসিভ না হওয়ায় দেখতে আসি। এ সময় দরজা খোলা ছিল। ঢুকে দেখতে পাই ঘরের আড়ার সঙ্গে একটি দড়িতে ভাই ঝুলে আছে। মাটি থেকে ৩-৪ আঙ্গুল উপরে তার দেহ ঝুলে ছিল। আশপাশে কোনো চেয়ার বা টেবিল ছিল না। পরে চিৎকার করলে লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ এসে মরদেহ নামিয়ে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসি) কবির হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আনোয়ার হোসেনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
