ইসরাইলি স্বার্থ জলাঞ্জলি, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ?

ইসরাইলি স্বার্থ জলাঞ্জলি, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ?

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং শিগগিরই এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। সোমবার ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোর সঙ্গে আলাপের সময় এ কথা বলেন ট্রাম্প। বিবিসি বলছে, ইতিমধ্যে চুক্তির কিছু বিষয় সামনে এনেছেন মার্কিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার থেকেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া হবে।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এ চুক্তি এবং যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি ‘রাজনৈতিক দুঃস্বপ্ন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের তিনটি মূল স্তম্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তাকে এক নতুন নিরাপত্তা সংকটে ফেলেছে। প্রশ্ন উঠেছে, যিনি নিজেকে ওয়াশিংটনের ‘রাজনৈতিক পরামর্শদাতা’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন এবং মার্কিন রাজনীতিবিদদের ওপর যার শক্ত প্রভাব ছিল, কীভাবে তাকে পাশ কাটিয়ে তার প্রধান মার্কিন মিত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি করলেন, এবং কীভাবে তিনি এভাবে প্রকাশ্যে অপমানিত হলেন? এছাড়া লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের দাবি এখন ইসরাইলের ‘মিস্টার সিকিউরিটি’ হিসেবে পরিচিত নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলে দিয়েছে, বিশেষ করে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর সামনে এখন কোনো ভাল বিকল্প নেই। এনিয়ে সোমবার ইসরাইলের সংসদ নেসেটে দেশটির বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেন, নেতানিয়াহুর সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা- হয় আমাদের সবচেয়ে বড় মিত্রের সঙ্গে সরাসরি ও মারাত্মক সংঘাত, অথবা ইসরাইলি স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেয়া। ইসরাইলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের বাধ্য করে না। আমরা সে চুক্তির অংশীদার নই, যা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।

এ ছাড়া মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা এবং ইরান বিশেষজ্ঞ সিমা শাইন বলেন, “আমেরিকানরা কেন এটি গ্রহণ করল তা বোঝা কঠিন। তিনি বলেছেন, লেবাননে কী ঘটবে তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা ইরানকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আসলে হিজবুল্লাহকে সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার এবং লেবাননের রাজনীতিতে হিজবুল্লাহকে প্রধান শক্তি হিসেবে টিকে থাকার সুযোগ করে দিচ্ছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নীতিগত সংঘাতের পথে এগোচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, এই চুক্তি ইসরাইলের জন্য ভয়াবহ। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান পর্যন্ত ইসরাইলি নেতৃত্বের মধ্যে এমন কেউ নেই, যিনি এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ইসরাইলে আসন্ন নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় থাকা নেতানিয়াহু ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন