অবশেষে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার তা স্বাক্ষর হওয়ার কথা সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এমনটা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। এনিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি ‘কমপ্লিট’। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইতির ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘ডিফিকাল্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে দেশ দুইটির সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে এখনো শঙ্কা রয়েছে বলে বিবিসির বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। লাইভ ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈরিতা অবসানের লক্ষ্যে ঘোষিত সমঝোতা ট্রাম্পের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। তবে এই কূটনৈতিক অগ্রগতির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চয়তায় ঘেরা, কারণ চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এমন উচ্চঝুঁকির সমঝোতার সফলতা বা ব্যর্থতা সাধারণত নির্ভর করে খুঁটিনাটি শর্তের ওপর। কিন্তু এবার সেই গুরুত্বপূর্ণ বিস্তারিত তথ্যই এখনো প্রকাশ করা হয়নি। রোববার সন্ধ্যায় ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ইরান কখনোই যেন পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে-এই বিষয়টি চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তার দাবি, চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে কিনা, তা যাচাই করার সক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্রের থাকবে। তবে এরপরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বিশেষ করে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর কী ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে এবং বর্তমানে ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ কী হবে- এসব বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এদিকে, অনিশ্চয়তাকে আরও জোরালো করেছে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের এক বিবৃতি। রোববার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সমঝোতা স্মারকের আওতায় অপর পক্ষের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের পরই চূড়ান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কী এবং ইরান সেগুলোকে কীভাবে ব্যাখ্যা করে, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে এই সমঝোতার স্থায়িত্ব। চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার আগে এখনো কয়েক দিন সময় হাতে রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ যদি অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ খুলে দিতে পারে। তবে একই সঙ্গে আশঙ্কাও রয়েছে- গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য দূর করা না গেলে শেষ মুহূর্তে পুরো প্রক্রিয়াটিই ভেঙে পড়তে পারে। ফলে, ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি যেমন একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক সাফল্যের মুহূর্ত, তেমনি আগামী কয়েক দিনই নির্ধারণ করবে এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ সত্যিই শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে, নাকি আরেকটি ব্যর্থ আলোচনার অধ্যায়ে পরিণত হবে।
অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ব্যাপারে বেজায় নাখোশ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দেশটি ইরানে যেকোনো প্রকাশে রেজিম পরিবর্তন করতে চায়। সেই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, ইসরাইল এই চুক্তির আওতায় নয়। নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার লেবানন-সংক্রান্ত ধারার সঙ্গে ইসরাইল নিজেকে বাধ্য মনে করে না। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবানন থেকে প্রত্যাহার করবে না ইসরাইল। বর্তমানে যেসব অবস্থানে রয়েছে সেখানেই থাকবে তারা। হিজবুল্লাহর হুমকি প্রতিহত করতে অভিযান চালিয়ে যাবে। এ ছাড়া ইসরাইলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তারা লেবানন, সিরিয়া এবং গাজা থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করবে না । অন্যদিকে ইরান বলছে, এই চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। ইসরাইল লেবাননে কোনোভাবে অভিযান চালাতে পারবে না।
