ফ্রান্সের একটি রিসোর্টে সোমবার বিশ্বের শীর্ষ ধনী সাত দেশের জোট জি-৭ এর নেতারা এক সম্মেলনে মিলিত হচ্ছেন আজ সোমবার। ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত চলমান এই সম্মেলনে বৈশ্বিক নেতারা ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা মোকাবেলা এবং বিশ্ব বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ চীনের প্রভাব কমানো সহ বেশ কিছু জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। জি-৭ (গ্রুপ অফ সেভেন) হলো বিশ্বের সাতটি প্রধান উন্নত অর্থনীতির দেশের একটি অনানুষ্ঠানিক ফোরাম।
এর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো হলো: কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করে। প্রতি বছর দেশগুলো সম্মেলনে মিলিত হয়। এবছর জি-৭ এর ৫২তম সম্মেলন হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সোমবারই ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-এ পৌঁছার কথা। বৈশ্বিক নেতারা যখন মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে, ঠিক তখনই এই সম্মেলন হচ্ছে। গত বছর কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন থেকে ট্রাম্প আগেভাগেই চলে যান। বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্পের বিভিন্ন আকস্মিক ও অস্থির পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্য, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং কূটনীতিকে ওলটপালট করে দিয়েছে, যা অনেক জি-৭ নেতাকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। সম্মেলন চলাকালীন ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সাথে বৈঠক করার এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে একটি অধিবেশনে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। জেলেনস্কি বড় তহবিল আশা করছেন জি-৭ এর নেতাদের কাছ থেকে। তবে ট্রাম্প এখন ইরানের সাথে সংঘাত অবসানেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। কেননা যুক্তরাষ্ট্রর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ইরান যুদ্ধ প্রভাব ফেলেছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। জি-৭ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই চুক্তির বিস্তারিত জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ আগামী শুক্রবার খুলে দেয়া হবে। পাশাপাশি তিনি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন ট্রাম্পকে স্বাগত জানাবেন। ম্যাক্রনের দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ আগামী বছর শেষ হতে চলায় এই সম্মেলনটিকে তার জন্য একটি বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ম্যাক্রন জি-৭ এর মঞ্চকে বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা দূরীকরণে ব্যবহার করতে চান। ফ্রান্সের মতে, এই সমস্যার পেছনে রয়েছে চীন অতিরিক্ত উৎপাদন করা, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ভোগ করা এবং ইউরোপের পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করা। এই আলোচনায় অংশ নিতে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো ছাড়াও ব্রাজিল, ভারত, কেনিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়াকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
