স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে সংসদে হট্টগোল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে সংসদে হট্টগোল

ফন্ট সাইজ:

ছাত্রশিবিরের এক ‘নিখোঁজ’ নেতাকে উদ্ধার, তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ এবং পরবর্তীতে দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়েছেন। এই বিবৃতি ঘিরে গতকাল হট্টগোল পরিস্থিতি তৈরি হয় জাতীয় সংসদে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিষয়ে দেয়া বক্তব্যের জবাব দিতে দাঁড়ান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এ পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার রুলিং দিলে সংসদে তীব্র হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

৩০০ বিধিতে দেয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১১ই জুন কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানের নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছিল। তবে পুলিশি অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে এক নারীর সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তাকে জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার ওষুধ খাওয়ান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানান, গত ১২ই জুন বিয়ের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ১১ই জুন রাতে বিয়ের পিঁড়িতে না বসার জন্য জিসান নিজেই আত্মগোপন করেন। পরে পুলিশ তাকে লাকসাম থেকে উদ্ধার করে। ভিকটিম নারী বাদী হয়ে জিসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন এবং ইতিমধ্যে দু’জন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এ বিষয়ে অনেকেই ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে নিখোঁজের বিষয়টি অন্যভাবে বর্ণনা করে সরকারকে দায়ী করতে চেয়েছিল। প্রকৃত ঘটনা জাতির সামনে প্রকাশ করা দরকার বলেই আমি এটি মহান সংসদে উত্থাপন করলাম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই ফ্লোর নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের। তিনি বলেন, ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেয়ার পর সম্পূরক প্রশ্ন করার নিয়ম না থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সুযোগ নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের বলেন, একটি অনিষ্পত্তিকৃত ও বিতর্কিত বিষয়কে পার্লামেন্টে এভাবে আনা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। মনে হচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি দলকে কনডেম করার জন্য ইনটেনশনালি এটা প্রেস করেছেন।
সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের প্রশ্ন তোলেন, জিসান এখন কোথায় আছে? কুমিল্লার পুলিশ জিসান বা ভিকটিমের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলতে দিচ্ছে না কেন? এখানে কোনো

যড়যন্ত্র তৈরি করা হচ্ছে কি-না?
বিরোধীদলীয় উপনেতার এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়। উভয় পক্ষের সদস্যরা দাঁড়িয়ে চিৎকার ও হট্টগোল করতে থাকলে সংসদ কক্ষে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার বারবার সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ আসনে বসার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ৩০০ বিধিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর কোনো প্রশ্ন বা বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে বিরোধীদলীয় উপনেতা যেহেতু দাঁড়িয়েছেন, তাকে বিশেষ বিবেচনায় সুযোগ দেয়া হয়েছিল।

উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, সংসদীয় রীতিনীতির বাইরে বা অসংসদীয় কোনো ভাষা যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে থেকে থাকে, তবে সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তীতে এক্সপাঞ্জ (সংসদীয় রেকর্ড থেকে বাদ) করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
স্পিকারের এই রুলিং এবং কঠোর অবস্থানের পর সংসদ কক্ষ শান্ত হয়। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধী দলের উপনেতাসহ সব সদস্য আসনে বসলে স্পিকার পরবর্তী কার্যসূচি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু করার ঘোষণা দেন।






কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন