আনোয়ারায় মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

আনোয়ারায় মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ফন্ট সাইজ:

আনোয়ারা উপজেলায় মা ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে পরিবারের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুপুত্র। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- এ্যানি বড়ুয়া (৩৫) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে এ্যানি বড়ুয়ার ছেলে পিয়াস বড়ুয়া (৫)। এ্যানি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া পেশায় একজন নিরাপত্তাকর্মী।

পুলিশ ও স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর আগে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘর থেকে বেরিয়ে এসে এ্যানি বড়ুয়া প্রতিবেশীদের কাছে রিমন বড়ুয়া নামের হামলাকারীর নাম উল্লেখ করে যান। একই অভিযোগ করেছে তার ছোট ছেলে পিয়াসও। রিমন বড়ুয়া সম্পর্কে এ্যানি বড়ুয়ার দেবর।

শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে যান। তখন ঘরের বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন এ্যানি বড়ুয়া। ঘরের ভেতরে রান্নাঘরের এক কোণায় পাওয়া যায় তার মেয়ে প্রিয়ন্তীর নিথর দেহ। পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশু পিয়াস। প্রতিবেশী সুরভী বড়ুয়া জানান, চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন এ্যানি ও তার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় রয়েছেন। এ সময় এ্যানি বারবার বলছিলেন, তেজ বড়ুয়া আমাকে ছুরি মেরেছে, আমার মেয়েকেও মেরে ফেলেছে। পরে হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতি চলাকালে উঠানেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বামী সুজন বড়ুয়া জানান, রাত ৯টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল। তখন এ্যানি তাকে জানিয়েছিলেন, পরদিন মন্দিরে খাবার বিতরণের দায়িত্ব রয়েছে এবং সেই প্রস্তুতি শেষে ছেলে-মেয়েকে পড়াচ্ছেন। এরপর রাত ১১টার দিকে ফোন করলেও আর যোগাযোগ করতে পারেননি।

সুজন বড়ুয়া বলেন, পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ফোন পেয়ে জানতে পারি আমার স্ত্রী ও মেয়ের ওপর হামলা হয়েছে। বাড়িতে এসে দেখি সব শেষ। আমার ছেলে আমাকে জড়িয়ে ধরে শুধু বলছিল, তেজ চাচা মেরেছে। তিনি জানান, অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়াকে প্রায় দুই বছর আগে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা খরচে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা কিনে দিয়েছিলেন। আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে কিছু বিষয় ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৪০) একই এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ছোট ভাইকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। নিহত প্রিয়ন্তী মাহাতা পাটনীকোঠা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্রী ছিল।

রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, হত্যার ঘটনায় জড়িতের বিষয়ে ধারণা করা হয়েছে, খুব দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে এএসপি আনোয়ারা, চট্টগ্রামের ডিবি পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমরা যা জানতে পারলাম ‘নিহতদের পরিচিত কেউ রাতের বেলায় পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস ঘটনা ঘটায়। আমরা এখানে এসে যা বুঝলাম তা থেকে হত্যাকারী সম্পর্কে আমাদের ধারণা তৈরি হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত তাকে ধরতে সক্ষম হবো। তারপরই ঘটনার মূল কারণ জানতে পারবো। তবে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।
আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী বলেন, মা ও মেয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন