সিলেটে অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তি বসছে

সিলেটে অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তি বসছে

ফন্ট সাইজ:

সিলেট নগর অনেক আগে থেকেই সিসিটিভি’র আওতায় এসেছে। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র থাকাকালে নগর জুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন। বর্তমানে এই সিসিটিভি হচ্ছে অপরাধীদের আতঙ্ক। ঘটনা ঘটলেই পাওয়া যায় ভিডিও ফুটেজ। অপরাধীও শনাক্ত করা যায় দ্রুত। আরও প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- ক্যামেরাগুলো নগরীতে চোখ পেতে আছে সেগুলোর পাশাপাশি আরও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে আসা হবে। বর্তমানে স্থাপন করা ক্যামেরা একাংশ কাজ করছে না।

পর্যায়ক্রমে এগুলো সরিয়ে নতুন প্রযুক্তি লাগানো হবে। এদিকে রোববার ট্রাফিক সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন- সিলেট নগরীতে অপরাধ দমন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি করপোরেশন। তথ্য উপস্থাপন করে সিসিক প্রশাসক জানিয়েছেন- নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরাগুলোর একটি অংশ বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বিদ্যমান ক্যামেরাগুলো দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে অপরাধী শনাক্তকরণ ও কার্যকর নজরদারিতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ বাস্তবতায় সিটি করপোরেশন একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি প্রকল্প গ্রহণ করছে।

তিনি জানান- নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অপরাধীদের গতিবিধি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। তাদের অবস্থান, চলাচল ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণকক্ষে পৌঁছে যাবে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সহজ ও কার্যকর হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর তা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে- সিলেটের আলোচিত কয়েকটি হত্যা মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সিসিক প্রশাসক বলেন, রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি দেশবাসীর মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আমরা আশাকরি র‌্যাব সদস্য ইমন হত্যা মামলা, শিশু ফাহিমা হত্যা মামলাসহ সিলেটের আলোচিত অন্যান্য হত্যা মামলাগুলোর বিচারও দ্রুত সম্পন্ন হবে।

তিনি জানান- এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আমরা আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং অপরাধীরা আইনের প্রতি আরও ভীত ও শ্রদ্ধাশীল হবে। সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ্ত রায়। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী ও অতিরিক্ত কমিশনার এনামুল হক।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ফুটপাথ ব্যবহার, ফুটপাথ না থাকলে রাস্তার ডানপ্রান্ত দিয়ে চলাচল, রাস্তা পারাপারের সময় ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার, চলন্ত যানবাহনে ওঠানামা থেকে বিরত থাকা এবং ট্রাফিক আইন মেনে যানবাহন চালানোর বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নগর পুলিশ জানিয়েছে- নগরের অপরাধ প্রবণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বর্তমানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এসব ক্যামেরা পুলিশের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হয়। কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার তদন্তে এসব ভিডিও ফুটেজ সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন