ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নিয়ে এক গোলকধাঁধা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আজ রোববারই এই চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে। এরপরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া হবে। কিন্তু ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে রোববার চুক্তি স্বাক্ষর হবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামাবাদ স্মারক চুক্তি রোববার স্বাক্ষরিত হবে না। ফলে কার কথা ঠিক তা ঠাহর করা কঠিন। কারণ, এর আগেও ট্রাম্প বহুবার চুক্তির অগ্রগতি দাবি করেছেন। ‘খুব শিগগিরই চুক্তি হচ্ছে’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু চুক্তি থেকেছে অধরাই।
এ নিয়ে সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, ট্রাম্প কমপক্ষে ৩৭ বার যুদ্ধবিরতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন। কিন্তু বাস্তবে এসব দাবির কোনো কার্যকারিতা দেখা যায়নি। ফলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলমান অবস্থায় আছে কয়েক মাস। যদিও এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে, তবে একে অন্যের বিরুদ্ধে হামলা-পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে শনিবার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে করা ইরানের চুক্তির তুলনা টেনে ট্রাম্প বলেন, তার চুক্তিটি হবে ‘সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী’। তার দাবি, ওবামার চুক্তি ইরানকে আরও দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে এগিয়ে দিত। তিনি লিখেছেন, বারাক ওবামার ইরান চুক্তি (জেসিপিওএ) ছিল পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের জন্য একটি সহজ, সুন্দর ও মসৃণ পথ। ওই চুক্তি কার্যকর থাকলে ইরান ছয় বছর আগেই পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত এবং বহু আগেই তা ব্যবহার করত। আমার ইরান চুক্তি ঠিক তার উল্টো। এটি পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে একটি অটল দেয়াল।
ট্রাম্প আরও বলেন, এখন ইরান আর পারমাণবিক অস্ত্র চায় না। ভবিষ্যতেও কেনা, উন্নয়ন কিংবা অন্য কোনো উপায়ে তারা পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হবে না। রিপাবলিকান এই নেতা দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক ভিন্ন এবং ভালো অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং তা ধ্বংস করবে। তবে ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানকে সতর্কবার্তাও দেন। তার ভাষায়, পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে ইরানকে গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি লিখেছেন, আশা করি এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত, সহজ এবং নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হবে। যদি তা না হয়, তাহলে আমাদের কাছে চূড়ান্ত বিকল্প রয়েছে- যেটি আবার কখনো ব্যবহার করতে না হয়, সেটিই আমরা আশা করি।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামাবাদ স্মারক চুক্তি রোববার স্বাক্ষরিত হবে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদ স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ অপর পক্ষের অবস্থানে এখনো দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
