রাউজানে মাথায় গুলি করে যুবদল নেতাকে হত্যা

রাউজানে মাথায় গুলি করে যুবদল নেতাকে হত্যা

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৪৫)কে। শনিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে পাহাড়তলী চৌমুহনীর আশরাফিয়া ফার্মেসির সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পৃষ্ঠা ১১ কলাম ৪
বেতাগী এলাকার মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি’র নেতা হুমাম কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও তার নাম আলোচনায় ছিল।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে পাহাড়তলী বাজার এলাকায় অবস্থান করছিলেন মাসুদ। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে আসা ৬ থেকে ৭ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে তার কোমর, বগলের নিচে এবং মাথায় ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে নিশ্চিত করা হয় তার মৃত্যু। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মাসুদ। পরে ঘাতকরা পাহাড়তলী-রাউজান সড়ক দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ইছাখালী এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অবরোধের কারণে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে মাসুদ চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে ইতিমধ্যে ছয়জন ঘাতককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের অভিযান শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাউজানের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘রায়হান বাহিনী’র সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বালু উত্তোলনের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে রাউজান উপজেলায় অন্তত ২৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন