দক্ষিণ এশিয়ার বিনিয়োগ গন্তব্য হতে চায় ঢাকা

দক্ষিণ এশিয়ার বিনিয়োগ গন্তব্য হতে চায় ঢাকা

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করতে জোরালোভাবে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সুস্পষ্ট কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি রয়েছে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বিনিয়োগ সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি’ শীর্ষক ওই সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন মন্ত্রীসহ অংশ নেন দেশি-বিদেশি কয়েকশ’ কূটনীতিক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রকৃত রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্দেশ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে আসে। বর্তমান সরকার সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে চায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, পূর্বানুমেয় ও ব্যবসাবান্ধব দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে গভীর ও কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার ব্যবসায়ী সমাজকে শুধু করদাতা হিসেবে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে নীতিগত পূর্বানুমেয়তা, স্বচ্ছতা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।

ড. খলিল বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বড় শিল্পগোষ্ঠীর সবাই যাতে সমান সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যেই সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একইসঙ্গে নতুন বাজার উন্মুক্ত করা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা, জলবায়ু ঝুঁকি এবং জ্বালানি সংকটের মতো বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশ নতুন সুযোগ খুঁজে নিতে চায়। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য তিনটি- স্থিতিশীলতা, সংস্কার এবং উন্নীতকরণ। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কূটনীতির মাধ্যমে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।

বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশি রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং ব্যবসায়িক নেতাদের বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রার অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ককে পারস্পরিক প্রবৃদ্ধি ও যৌথ সমৃদ্ধির ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে চায়। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব জুড়ে বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সক্রিয় সহায়ক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আধুনিকায়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সংযোগ জোরদারে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং যৌথ সমৃদ্ধির নতুন পথ তৈরি করবে। তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সম্ভাবনার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। সম্মেলনের আলাদা তিনটি অধিবেশনে বক্তব্য দেন তারা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের সব নাগরিকের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে বর্তমান সরকার। অর্থনীতিতে সাম্য ও ন্যায্যতা ও অলিগার্কদের ধ্বংস করা বিএনপি সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রথম কর্ম অধিবেশন: সম্মেলনের প্রথম কর্ম অধিবেশন ‘দ্য পলিসি কম্পাস- অ্যাডভান্সিং ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’-এ বক্তারা অর্থনৈতিক কূটনীতিকে প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। আলোচনায় অংশ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহ্‌দী আমিন।

দ্বিতীয় কর্ম অধিবেশন: সম্মেলনের দ্বিতীয় কর্ম অধিবেশন ‘নেভিগেটিং রিস্কস: লিভারেজিং রেজিলিয়েন্স’-এ টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে আরও বেশি মূলধন সংগ্রহ, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন। সঞ্চালনা করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা এম মাসরুর রিয়াজ।

তৃতীয় কর্ম অধিবেশন: সম্মেলনের তৃতীয় কর্ম অধিবেশন ‘দ্য নিউ স্টেজ: গভ. পলিসি ফর এআই, ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড স্পোর্ট-’এ উদীয়মান শিল্পখাতকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সৃজনশীল শিল্প এবং ক্রীড়া খাতকে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন বক্তারা। অধিবেশনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বিশেষ বক্তব্য দেন। এই অধিবেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে ছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন