‘ব্লু ওয়েভ’-এ ভড়কাবে না জার্মানি

‘ব্লু ওয়েভ’-এ ভড়কাবে না জার্মানি

ফন্ট সাইজ:

হিউস্টনে আজ রাত ১১টায় এক অসম দ্বৈরথের সাক্ষী হতে যাচ্ছে গোটা ফুটবল বিশ্ব। ‘ই’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী জার্মানির মুখোমুখি হচ্ছে ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটি প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে পা রেখেছে।

অন্যদিকে গত দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পর এবার জার্মানদের জন্য এটি নিজেদের হারানো সম্মান পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় মিশন। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক লেফট ব্যাক ও ‘দ্য ওয়াল’ খ্যাত মোহাম্মদ ওয়ালী ফয়সাল মনে করেন, মাঠের লড়াইয়ে কেউ কাউকে আজ এতটুকু ছেড়ে কথা বলবে না। তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ প্রসঙ্গে বলেন, ‘জার্মানি এই টুর্নামেন্টের ফেভারিট এবং তাদের খেলার স্বাভাবিক ধরন ও দীর্ঘ পাসের কৌশলের সঙ্গে সবাই আগে থেকেই বেশ পরিচিত। কিন্তু কুরাসাওয়ের মতো একেবারে নতুন দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলাটা তাদের জন্য ভিন্ন ধরনের এক অভিজ্ঞতা হতে পারে।’ ৭৮ বছর বয়সী কোচ ডিক অ্যাডভোকাটের অধীনে বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচে ২৮ গোল করে কুরাসাও নিজেদের আক্রমণভাগের ভয়ংকর রূপ আগেই পুরো বিশ্বকে দেখিয়েছে। তাই অভিজ্ঞ জার্মান রক্ষণভাগকে আজ একটি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে।

অন্যদিকে ব্লু ওয়েভ’ নামে পরিচিত ক্যারিবীয় দলটি মানসিকভাবে অত্যন্ত চাঙ্গা। জ্যামাইকার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে মূল পর্বে আসা দলটির হার না মানার মানসিকতা প্রবল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক উইঙ্গার তাহিথ চং এবং বাকুনা ভাইদের মতো তারকারা এই দলের প্রধান শক্তির উৎস। ফয়সাল এই মানসিক চাপ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কুরাসাওয়ের হারানোর ভয় নেই। তারা বরং বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের জন্য মরিয়া হয়ে খেলবে। জার্মানির জন্য এটা একটা মানসিক চাপের ম্যাচ। কারণ আগের ব্যর্থতা ভুলে তাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’

বিশ্বমঞ্চে ১১২ ম্যাচ খেলার এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে জার্মানদের ফুটবল ঝুলিতে। কিন্তু এই ম্যাচে প্রতিপক্ষের খেলার ধরন সম্পর্কে তাদের খুব বেশি ধারণা নেই। ইউরোপিয়ান বা ল্যাটিন দলগুলোর কৌশল সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল থাকলেও, ক্যারিবীয় এই দলের পরিকল্পনা পুরোপুরি অজানা। এটি ডাচ্‌ কোচ অ্যাডভোকাটের জন্য একটি বাড়তি বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করবে। ফয়সাল এই কৌশলগত দিক নিয়ে বলেন, ‘জার্মানি জানে না কুরাসাও ঠিক কী পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবে। এটাই তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে জার্মানদের রক্ষণের দৃঢ়তা সব সময়ই প্রশংসনীয়। নিচ থেকে খেলা তৈরি করে লম্বা পাসে আক্রমণ শানানোর যে সহজাত প্রবৃত্তি তাদের আছে, সেটি দিয়েই তারা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

‘ই’ গ্রুপের অন্য দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলো ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্ট। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে হলে শুধু ম্যাচ জিতলেই চলবে না, গোল ব্যবধানেও বেশ এগিয়ে থাকতে হবে। ওয়ালি বলেন, ‘পরের দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ অনেক শক্তিশালী। তাই প্রথম ম্যাচ থেকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট অর্জন করা জরুরি জার্মানির। পয়েন্ট হারালে তারা আবারও বাজে পরিস্থিতিতে পড়ে যাবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের কন্ডিশন ও আবহাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিশ্চিতভাবে এক বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে স্টেডিয়ামে ক্যারিবীয় দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি থাকতে পারে, যা কুরাসাওকে স্বাগতিক দলের মতো সুবিধা এনে দেবে। গ্যালারির এই বিশাল সমর্থন জার্মান খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি চাপের কারণ হতে পারে। তবে ফয়সাল মনে করেন, মাঠের খেলায় পেশাদারিত্বই সব সময়ের জন্য শেষ কথা। তিনি বলেন, ‘স্টেডিয়ামের পরিবেশ যাই হোক না কেন, জার্মানির লক্ষ্য থাকবে শুধু গোল করা এবং ম্যাচ জেতা। তারা সব সময় শুধু জয়ের জন্যই মাঠে নামে।’





কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন