চাপ কাটানোর মন্ত্র যখন বই

চাপ কাটানোর মন্ত্র যখন বই

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপ মানেই মাঠের তীব্র লড়াই, রণকৌশলের সূক্ষ্ম হিসাব আর স্নায়ুচাপের পরীক্ষা। তবে এত চাপের মধ্যেও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সময় কীভাবে কাটে, তা আলাদা কৌতূহলের বিষয়। উত্তর যদি হয় ভিডিও গেমের বদলে বিশ্বসাহিত্য পাঠ আর কুইজ প্রতিযোগিতা, তাহলে বিস্মিত হওয়াই স্বাভাবিক। উত্তর আমেরিকার গরম আবহাওয়া আর হোটেলকেন্দ্রিক জীবনযাপনের একঘেয়েমি কাটাতে সুইডেন জাতীয় ফুটবল দল বেছে নিয়েছে এমনই পথ। আগামীকাল সকাল ৮টায় তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হবে তারা।

বিশ্বকাপে এটি তাদের প্রথম সাক্ষাত। এর আগে চারবার প্রীতি ম্যাচে লড়েছিল দু’দল। দুই জয় ও এক ড্র নিয়ে এগিয়ে সুইডেন। আর ২০০৩ সালে সর্বশেষ দেখায় ১-০ গোলে জেতে তিউনিসিয়া।
সুইডিশ শিবিরের সবচেয়ে বড় ‘বুকওয়ার্ম’ বা বইপ্রেমী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন ডিফেন্ডার গুস্তাফ লেগারবিয়েলকে এবং গোলরক্ষক ইয়াকব উইডেল জেটারস্ট্রোম। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে এসে স্থানীয় সংস্কৃতি ও পরিবেশকে আরও ভালোভাবে অনুভব করতে তারা বেছে নিয়েছেন মার্কিন সাহিত্যের ক্লাসিক কিছু বই। লেগারবিয়েলকে পড়ছেন করম্যাক ম্যাককার্থির বিখ্যাত উপন্যাস ‘নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান’, যা তাকে টেক্সাসের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আবহ বুঝতে সহায়তা করছে। অন্যদিকে জেটারস্ট্রোম ডুবে আছেন নোবেলজয়ী লেখক টনি মরিসনের সাহিত্যজগতে। শুধু বই পড়াই নয়, নিজের ভাবনা ও দর্শন লিপিবদ্ধ করার জন্য সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত ডায়েরিও রেখেছেন লাগেরবিয়েলকে।
বইয়ের পাতার বাইরে দলের ভেতরের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে নিয়মিত বসছে কুইজ ও বোর্ড গেমের আসর। বিশেষ করে জনপ্রিয় মিউজিক গেম ‘হিটস্টার’ নিয়ে মেতে আছেন খেলোয়াড়রা। কুইজ প্রতিযোগিতায় জেটারস্ট্রোমের আধিপত্য থাকলেও সবাইকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছেন তরুণ মিডফিল্ডার লুকাস বার্গভাল। বয়সে তরুণ হলেও ফ্রাঙ্ক সিনাত্রার মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের পুরোনো গান অনায়াসে শনাক্ত করে সতীর্থদের বিস্মিত করছেন তিনি।

অবশ্য সবাই সমান সফল নন। সতীর্থদের রসিক মন্তব্য অনুযায়ী, হ্যালমার একডাল ও বেনিয়ামিন নিগ্রেনরা গেম শুরুর আগে যতটা আত্মবিশ্বাস দেখান, প্রতিযোগিতার টেবিলে গিয়ে ততটাই হিমশিম খেতে হয় তাদের।

ভিডিও গেমের প্রচলিত বৃত্ত থেকে বেরিয়ে বইপড়া, কুইজ ও বুদ্ধিবৃত্তিক আড্ডাকেই অবসরের সঙ্গী করেছে সুইডেন। এতে যেমন কমছে বিশ্বকাপের মানসিক চাপ, তেমনি বাড়ছে খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দলীয় সংহতি। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে সুইডিশদের এই ভিন্নধর্মী প্রস্তুতি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তাই দিচ্ছে।
বিশ্বকাপে রয়েছে সুইডেনের সমৃদ্ধ ইতিহাস। এর আগে ১২ বার অংশ নিয়ে চারবার সেমিফাইনাল ও পাঁচবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে দলটি। সুইডিশদের সর্বোচ্চ সাফল্য ১৯৫৮ সালে রানার্সআপ হওয়া। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ তিউনিসার এটি সপ্তম বিশ্বকাপ। কখনোই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি দলটি। তবে গত আসরে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমকে দেয় তিউনিসিয়া। এবারও কি নতুন কোনো চমক উপহার দেবে তারা? আফ্রিকান বাছাইয়ে ১০ ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি দলটি!


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন