এয়ারপোর্টের সেই ‘না’ থেকে বড় মঞ্চের হিরো বালোগান

এয়ারপোর্টের সেই ‘না’ থেকে বড় মঞ্চের হিরো বালোগান

ফন্ট সাইজ:

২৫ বছর আগের কথা। লন্ডনের বাসিন্দা ফ্লোরেন্স তখন সন্তানসম্ভবা। নিউ ইয়র্কে নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করে ঘরে ফেরার কথা ভাবছিলেন তিনি। কিন্তু এয়ারপোর্টের মেডিক্যাল টিম ফ্লোরেন্সকে আটকে দিলো। বোর্ডিং পাস না পেয়ে নিরুপায় ফ্লোরেন্স ব্রুকলিনে এক আত্মীয়ের বাসায় উঠলেন। সেখানেই জন্ম ফোলারিন বালোগানের। লন্ডনে বাস করা নাইজেরিয়ান বাবা-মায়ের কাছে ফেরেন দুই বছর পর। পারিবারিক ও জন্মসূত্রে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনটি দেশের হয়ে খেলার সুযোগ ছিল বালোগানের সামনে- যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড এবং নাইজিরিয়া। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেন ফোলারিন বালোগান। আর্সেনালের হয়ে প্রিমিয়ার লীগে নজরকাড়া স্ট্রাইকার এবার দক্ষতার ছাপ রাখছেন বিশ্বমঞ্চে। জোড়া গোল করে দাপুটে জয় এনে দিয়েছেন জন্মভূমি যুক্তরাষ্ট্রকে। গতকাল সকালে ৪-১ গোলের বড় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিন ২৪ বছর বয়সি বালোগান ভেঙেছেন ৯৬ বছরের এক রেকর্ড। ১৯৩০ সালের পরে কোনও আমেরিকান ফুটবলার যা করতে পারেননি, সেটাই করে দেখিয়েছেন বালোগান।
প্রায় ৭০ হাজার ৫০০ জন দর্শকে ভরা সোফি স্টেডিয়ামে এবারের বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। এদিন গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম। তার সামনেই আমেরিকার হয়ে জোড়া গোল করে নজির গড়লেন ফোলারিন বালোগান। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের ম্যাচে তিন গোল করেছিলেন আমেরিকার বার্ট প্যাটেনাউড। সেই ম্যাচটাও ছিল প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেটাই ছিল কোনও ফুটবলারের করা প্রথম হ্যাটট্রিক। ১৯৩০ সালের পর এই প্রথম কোনও আমেরিকান ফুটবলার বিশ্বকাপের মঞ্চে একাধিক গোল করলেন। তাই হ্যাটট্রিক না করলেও ‘হিরো’ এখন বালোগান।

ছোটবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ড, দুই দেশেরই বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন তিনি। ফুটবলের হাতেখড়ি আর্সেনালের বিখ্যাত ‘হেল এন্ড’ অ্যাকাডেমিতে। ২০২০ সালে আর্সেনালের সিনিয়র দলে অভিষেকে গোল করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। পরে নিয়মিত সুযোগ পাননি। এ কারণে আর্সেনালের সাইডবেঞ্চে বসে সময় নষ্ট করতে চাননি এই তরুণ। প্রিমিয়ার লীগের চেনা গণ্ডি ছেড়ে পাড়ি জমান ফরাসি লীগে। ২০২৩ সালে রেইমসের হয়ে এক মৌসুমে করেন ২১ গোল। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নজর কাড়েন ইউরোপের ফুটবল মহলে। এর পরেই বালোগানকে দলে নেয় এএস মোনাকো। এক মৌসুমে ১৯ গোল করে নিজেকে অন্যতম দাপুটে স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন বালোগান। বয়সভিত্তিক ফুটবল ইংল্যান্ডের হয়ে খেললেও নাইজেরিয়ার প্রতি তার ছিল নাড়ির টান। আর জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোন দেশের জার্সি গায়ে জড়াবেন, তা নিয়ে যখন দ্বিধাদ্বন্দ্ব তুঙ্গে, তখন মা ফ্লোরেন্সই পথ দেখান। মা বলেছিলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না কোনো কিছু স্রেফ ভাগ্যের জোরে ঘটে। আমার সেবার যুক্তরাষ্ট্রে আটকে যাওয়া আর সেখানে তোকে জন্ম দেয়ার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো গভীর কারণ ছিল।’ মায়ের সেই কথাই যেন দাগ কেটেছিল বালোগানের মনে। ২০২৩ সালে বেছে নেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন