কিক-অফের আগে টরন্টো স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ঘোষিত হয় ‘ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত এসে গেছে।’ নিজেদের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ, গ্যালারিতে রায়ান রেনল্ডস থেকে শুরু করে কনর ম্যাকডেভিডের মতো তারকাদের উপস্থিতি আর স্টেডিয়াম জুড়ে লাল জার্সির সমুদ্র। এমন এক মহোৎসবে দারুণ খেলে বিশ্বকাপ ফুটবলে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট তুলে নিলো সহ-আয়োজক কানাডা। শুক্রবার রাতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে জেসি মার্শের শিষ্যরা। এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপ মিলে খেলা ৬ ম্যাচের সবকটিতেই হার দেখে কানাডিয়ানরা। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়ে চাপে পড়েছিল কানাডা। তবে শেষ মুহূর্তে কোচের ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে মাঠে নেমে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন ফরোয়ার্ড কাইল লারিন। বদলি নামার মাত্র ১২১ সেকেন্ডের মাথায় তার করা গোল কানাডাকে এনে দেয় বাঁধভাঙা উল্লাসের উপলক্ষ।
টরন্টো স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিক কানাডা। তবে প্রথমার্ধে জোনাথন ডেভিডের সহজ সুযোগ মিস ও মাঝমাঠের কিছুটা এলোমলো খেলার সুযোগ নেয় বসনিয়া। ২১ মিনিটে প্রথম কর্নার থেকে ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। সিয়াদ কোলাসিনাচের হেডে বল সামনে ফ্লিক হয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে নিখুঁত হেডে কানাডার জাল কাঁপিয়ে দেন জোভো লুকিচ। এটি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও দমে যায়নি ‘বি’ গ্রুপের দলটি। গোল হজমের পর আক্রমণের ধার বাড়ায় কানাডা। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুটি গোলের সুযোগ নষ্ট হলে হতাশায় পুড়তে হয় স্বাগতিকদের। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বসনিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে চেনা ছন্দে ফেরে কানাডা। বল দখল আর মুহুর্মুহু আক্রমণে বসনিয়ার ডিফেন্সকে কাঁপিয়ে দেয় তারা। ৫৩ মিনিটে রিচি ল্যারিয়ার একটি জোরালো শট নিশ্চিত গোলের দিকে যাচ্ছিলো, কিন্তু বসনিয়ার ডিফেন্ডার সিয়াদ কোলাসিনাচ গোললাইন থেকে পা দিয়ে বল ক্লিয়ার করলে সেটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
ভাগ্যের এমন খেলায় কানাডার ডাগআউটে হতাশা বাড়ছিল। ঠিক তখনই ৭৫ মিনিটে দৃশ্যপটে আসেন কাইল লারিন। মাঠে নামার ১২১ সেকেন্ডের পর কানাডার হয়ে সমতাসূচক গোল করেন। ইসমাইল কোনে ও জোনাথন ডেভিডের তৈরি করা আক্রমণের সূত্র ধরে বক্সের ভেতর বল পান লারিন। ঠান্ডা মাথায় বসনিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিখুঁত ফিনিশিং টানেন। বিশ্বকাপে আলফানসো ডেভিসের পর কানাডার দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে গোল পাওয়ার নজির গড়েন তিনি। এরপর দু’দলের কেউই গোল করতে পারেনি। ১-১ গোলের ড্র’য়ে ম্যাচ শেষ হয়। ম্যাচ শেষে কানাডার আমেরিকান কোচ জেসি মার্শ বলেন, ‘প্রথমার্ধ নিয়ে আমি কিছুটা হতাশ। আমরা যতটা আক্রমণাত্মক খেলতে চেয়েছি, ততটা পারিনি। তবে এত লাল জার্সি আর সমর্থকদের এই সমুদ্র আমাদের দারুণভাবে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে। এই ১ পয়েন্ট গ্রুপে টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখনো সবকিছু আমাদের হাতেই আছে।’ বসনিয়া কোচ সের্গেই বারবারেজ বলেন, দকানাডার মাঠে, তাদের দর্শকদের সামনে এই পয়েন্ট পাওয়া আমাদের জন্য বড় অর্জন। ছেলেরা পুরোটা সময় দুর্দান্ত লড়েছে।’ এই ড্র’য়ের ফলে ‘বি’ গ্রুপে কানাডা ও বসনিয়া দুই দলই ১ পয়েন্ট করে পেল। আগামী ১৯শে জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কাতারের মুখোমুখি হবে কানাডা। অন্যদিকে, ১৮ই জুন বসনিয়ার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।
.
