জার্মান যন্ত্র নাকি কখনো বিকল হয় না। যতই ভঙ্গুর দল হোক, ফর্ম না থাকুক, বিশ্বকাপ এলে জার্মানরা হয়ে ওঠে দুর্বার। কিন্তু এই ধারণা পাল্টে যায় গত দুই বিশ্বকাপে। চারবারের চ্যাম্পিয়নরা বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকেই। অতীতের ভূত কি আবারও চেপে বসবে ঘাড়ে, নাকি উত্তর আমেরিকায় গৌরবের পুনর্জন্ম হবে- সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আজ মাঠে নামেছে জার্মানি। হিউস্টন স্টেডিয়ামে ‘ই’ গ্রুপে লড়াইয়ে ‘ডি মানশাট’-দের প্রতিপক্ষ কুরাসাও। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।
বিশ্বকাপে কুরাসাওয়ের আগমন যেন রূপকথার সিন্ডারেলা গল্প। মাত্র দেড় লাখ জনগোষ্ঠীর একটি ক্যারিবীয় দ্বীপ। ফুটবল ঐতিহ্য নেই তেমন। সম্পদ ও সুযোগ সুবিধাও সীমিত। এর আগে কখনো বিশ্বকাপে খেলেনি। এবার তারা কনকাকাফ বাছাই পর্ব শেষ করে কোনো ম্যাচ না হেরেই! জ্যামাইকা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর মতো প্রতিপক্ষদের পেছনে ফেলে হয় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। মূলত ‘ডাচ’ সংযোগে বলিয়ান কুরাসাও স্কোয়াড। নেদারল্যান্ডসের অংশ হওয়ায় সেখানকার ফুটবল আবহে বেড়ে উঠেছেন কুরাসাওয়ের অনেক খেলোয়াড়। তাহিথ চং, লিয়ান্দ্রো বাকুনা, জুনিনহো বাকুনার মতো অনেকের রয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিজ্ঞতা। তারাই দলটিকে নিয়ে গেছেন ইতিহাসের চূড়ায়। ইউরোপের কোনো চ্যাম্পিয়ন দল পরের বার প্রথম রাউন্ডে বাদ পড়বে- ২০০২ থেকে শুরু হওয়া এই অভিশাপের ধারাবাহিকতায় গতবার ইতি টানতে পেরেছে ফ্রান্স। তবে জার্মানি পারেনি। ২০১৪ সালে শিরোপা জয়ের পর ২০১৮তে তলানিতে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করে মুলাররা। প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে হার, সুইডেনের বিপক্ষে পরের ম্যাচে জিতলেও ভাগ্য নির্ধারণী লড়াইয়ে জার্মানি হেরে গিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে। কাতার বিশ্বকাপেও আরেক এশিয়ান জায়ান্টে স্বপ্নভঙ্গ হয় জার্মানির। সেবার তাদের বিদায় করে জাপান। টানা তৃতীয়বার ব্যর্থতার মুখ দেখতে চান না লিওন গোরেৎজকা। জানালেন, হারানো গৌরব পুর্নরুদ্ধারই মূল
লক্ষ্য তাদের। বায়ার্ন মিউনিখ তারকা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এই গ্রীষ্মে সবকিছু ঠিক করতে চাই আমরা। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের হতাশা বর্তমান দলকে তাড়া করে বেড়ায় না। সমর্থকদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনাই আমাদের বড় প্রেরণা।’
র্যাংঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে থাকা জার্মানি এই বছর অপরাজিত রয়েছে। সবশেষ ২০২৫’র ৫ই সেপ্টেম্বর বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচে স্লোভাকিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল তারা। এরপর টানা ৯ ম্যাচ জিতে আমেরিকার মাটিতে পা রেখেছে হুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল। দারুণ ছন্দে থাকার পরও নিজেদের ফেভারিট মানতে নারাজ গোরেৎজকা। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা ফেভারিটদের মধ্যে নই। কিন্তু জার্মান হিসেবে, বড় ফুটবল পাগল জাতি হিসেবে প্রত্যাশা সবসময়ই বেশি।’
নজরে থাকবেন যারা
মিরোস্লাভ ক্লোসার অবসরের পর থেকে ভালো মানের স্ট্রাইকার সংকটে ভুগছে জার্মানি। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বক্সের ভেতর যথেষ্ট আক্রমণ সত্ত্বেও দুর্বল ফিনিশিংয়ে মেলেনি কাঙ্ক্ষিত গোল। তবে জার্মানদের এই সমস্যার সমাধান দিতে পারেন কাই হাভার্টজ। আর্সেনালের সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড ছন্দে আছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে গোল করেছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের শেষ দুই ম্যাচেই পেয়েছেন জালের দিশা। তবে বিশেষভাবে নজরে থাকবেন বায়ার্ন তারকা জামাল মুসিয়ালা। তার পায়েই হবে প্রতিটি আক্রমণের সূচনা। এছাড়া ফ্লোরিয়ান ভির্টজসের সৃজনশীলতা পার্থক্য গড়ে দেবে। গোলমুখে থাকছেন অভিজ্ঞ ম্যানুয়েল ন্যায়ার।
ফিফা র্যাংঙ্কিংয়ে ৮২ নম্বরে থাকা কুরাসাও দলটির বড় তারকা অধিনায়ক লিয়ান্দ্রো বাকুনা। সহোদর জুনিনহো বাকুনাকে নিয়ে মাঝমাঠ সামলাবেন অ্যাস্টন ভিলার সাবেক এই তারকা। আক্রমণভাগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গ্র্যাজুয়েট তাহিথ চং রয়েছেন। জার্মানদের চমকে দিতে পারেন তারা।
শিষ্য যখন শত্রু
কুরাসাও ডিফেন্ডার জশোয়া ব্রেনেট পুরনো হিসাব চুকাতে চাইবেন নাগেলসম্যানের সঙ্গে। হফেনহাইমের কোচ থাকাকালীন নাগেলসম্যান একবার তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েছিলেন। নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেয়া ব্রেনেট ডাচদের হয়ে এর আগে দুটো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। আর চমকপ্রদ তথ্য হলো পুরো স্কোয়াডের মাত্র একজনেরই জন্ম কুরাসাওয়ের মাটিতে।
ম্যাচ গোল অ্যাসিস্ট
হাভার্টজ ৫৮ ২২ ১৮
লিয়ান্দ্রো বাকুনা ৭০ ১৬ ৬
