অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের আনন্দের মাঝে দুশ্চিন্তা ভর করে বাংলাদেশ শিবিরে। অজি পেসার ন্যাথান এলিসের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পেয়ে ম্যাচের পরই হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে প্রথমে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বলা হলেও ১২ ঘণ্টা পরই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাসায় ফিরেছেন তিনি। বিপদের কোনো শঙ্কা না থাকায় এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মিরাজকে রিলিজ করে দিয়েছে।
আজ দুপুরে বিসিবির এক ভিডিও বার্তায় অধিনায়কের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ আপডেট জানিয়েছেন টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবাল। তিনি বলেন, ‘আমাদের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বাসায় ফিরেছে। তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ১২ ঘণ্টার মতো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। আপনারা জানেন, বাউন্সারে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তার একটু বমি হয়েছিল, যা কিছুটা শঙ্কার ছিল। যদিও ও ভালো বোধ করছিল, তাও বিসিবির চিকিৎসক ও ফিজিওরা মিলে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ওকে হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।’ নাফিস ইকবাল বলেন, ‘হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথম স্ক্যানেই তার রিপোর্ট ভালো আসে। দ্বিতীয়বার স্ক্যান করার পর সেখানেও রিপোর্ট পজিটিভ আসায় তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়েছে।’
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার দেয়া লক্ষ্য তাড়া করার শেষ দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের যখন জয়ের জন্য প্রয়োজন মাত্র ২৪ রান, তখন ন্যাথান এলিসের একটি জোরালো শর্ট বল সরাসরি আঘাত হানে মিরাজের হেলমেটে। আঘাত এতটাই জোরালো ছিল যে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে স্ট্রেচার নিয়ে আসা হয়। তবে দলের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান অধিনায়ক। উইকেটে কিছুক্ষণ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা ধাতস্থ হয়ে আবারও ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। পরের ওভারেই তাওহিদ হৃদয়ের চার-ছক্কার পর মিরাজের ব্যাট থেকে আসে এক দর্শনীয় ছক্কা। আর তাতেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। তবে ম্যাচ শেষে সিরিজ জয়ের উৎসবে আর যোগ দিতে পারেননি মিরাজ, মাঠ থেকেই তাকে সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। রোববার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্যে শেষ ওয়ানডেতে মাঠে নামবে টাইগাররা। তার আগে শনিবার মিরপুরে দলের ঐচ্ছিক অনুশীলন রয়েছে। তবে শেষ ম্যাচে অধিনায়ককে মাঠে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি টিম ম্যানেজার। নাফিস ইকবাল জানান, ‘শনিবার ওর অনুশীলনের ব্যাপারে আমি এখনও নিশ্চিত নই। আমাদের মেডিকেল টিম ও ফিজিওরা ওর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। আগামীকাল ওর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে শেষ ম্যাচে খেলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
