চোট পাওয়ার পর অবসরে জাপানের অধিনায়ক

চোট পাওয়ার পর অবসরে জাপানের অধিনায়ক

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার আগে বড় ধাক্কা খেলো জাপান। চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন দলের অধিনায়ক ওয়াতারু এনদো। কেবল বিশ্বকাপই নয়, এই চোটের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকেও বিদায় জানালেন লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টের আগে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে না পারায় জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রিমিয়ার লিগে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে পায়ে গুরুতর চোট পান এনদো। সেই ইনজুরি তাঁর ক্লাব মৌসুমের ইতি টেনে দেয়। মাঠের বাইরে থেকে দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলেও পুরোপুরি ফিট হতে পারেননি তিনি। অবশ্য জাপানের প্রাথমিক স্কোয়াডে ওয়াতারু এনদোর নাম থাকায় কিছুটা আশার আলো দেখেছিলেন ভক্তরা। লিভারপুলের হয়ে মৌসুমের শেষ ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ছিলেন তিনি। তবে ন্যাশভিলে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর বোঝা যায়, সর্বোচ্চ পর্যায়ের লড়াইয়ের জন্য এখনও প্রস্তুত নন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই বিশ্বকাপ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিলেন।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার খবরের পাশাপাশি এক বড় চমক নিয়ে আসেন ওয়াতারু এনদো। কেবল বিশ্বকাপ থেকেই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে পুরোপুরি অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন জাপান জাতীয় দলের এই অধিনায়ক। দীর্ঘ সময় জাপানের মিডফিল্ডের স্তম্ভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই সাবেক স্টুটগার্ট তারকা এক আবেগঘন বিবৃতির মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ারের এই অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন। নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে এনদো বলেন, ‘আমি বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছি। চোট পাওয়ার পর থেকে এই সময় পর্যন্ত আমি নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করেছি, তাই আমার কোনো আক্ষেপ নেই। বিশ্বকাপে খেলতে না পারার যন্ত্রণা তো আছেই, তবে তার চেয়েও বড় কথা—কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে দল হিসেবে আমরা যেভাবে বেড়ে উঠেছি, তা আমাকে গর্বিত করে। অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছি এবং বিশ্বকাপ জেতার মতো লক্ষ্যকে আমরা এখন একটি স্বাভাবিক গন্তব্য হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত হয়েছি।’

ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কষ্ট থাকলেও এনদো নজর রাখছেন দলের ভবিষ্যতের দিকে। সতীর্থদের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ঐক্যবদ্ধভাবে জাপানি স্কোয়াডকে সমর্থন জোগায়। বিদায়বেলায় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এনদো বলেন, ‘বর্তমান দলটি সত্যিই অসাধারণ। আমার বিশ্বাস, যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করে তারা আমাদের এমন উচ্চতায় নিয়ে যাবে যা আমরা আগে কখনও দেখিনি। এই বিশ্বকাপের মাধ্যমেই আমি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিচ্ছি। এখন থেকে আমি সাধারণ ভক্তদের একজন হিসেবেই জাপান দলকে সমর্থন করব। জাপান একদিন নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপ জিতবে। সেই বিশ্বাস নিয়ে আসুন আমরা দলটির পাশে থাকি।’ তিনি বলেন , ‘আসুন, এবারের টুর্নামেন্টে আমাদের শক্তিকে এক সুতোয় গাঁথি। সবাই মিলে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার এই বিশ্বকাপে লড়াই করি! সবাই নিজের সর্বোচ্চটুকু উজাড় করে দাও।’ অধিনায়ক ওয়াতারু এনদো ছিটকে যাওয়ায় তার শূন্যস্থান পূরণে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান টিম ম্যানেজমেন্ট। এনদোর জায়গায় ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে ডাকা হয়েছে বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখের মিডফিল্ডার শুতো মাচিনোকে।

যদিও মাচিনো প্রতিভাবান খেলোয়াড়, তবুও এনদোর মতো একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতার অভাব জাপানের কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন অনেকে। ৭৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এনদো দলের জন্য ছিলেন বড় এক ভরসা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও তিনি জাপানের হয়ে চারটি ম্যাচ খেলেছিলেন। সেই বিশ্বকাপে জাপান শেষ ষোলোতে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে অত্যন্ত হৃদয়বিদারকভাবে বিদায় নিয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপে ‘এফ’ গ্রুপে খেলবে জাপান। তাদের সঙ্গী নেদারল্যান্ডস, সুইডেন এবং তিউনিসিয়া। ১৪ই জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে জাপানের বিশ্বকাপ অভিযান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন