ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১০ টি অঞ্চলেই পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা, দুই শিফটে কাজ করবে

ফন্ট সাইজ:

পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার লক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১০ টি অঞ্চলেই পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিবাকালীনের পাশাপাশি রাত্রিকালীন দুই শিফটে কাজ করবে বললেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ডিএনসিসির ২৬ টি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বেগবান করতে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রচলিত ভ্যান সার্ভিস সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনার আওতায় নেয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

QRT এবং মোবাইল টিমের মাধ্যমে প্রধান সড়কসমূহে পড়ে থাকা বর্জ্য অপসারনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত মনিটরিং মাধ্যেমে কোথায় যেন বর্জ্যের স্তুপ না পরে থাকে সে বিষয়ে সংশিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন ডিএনসিসি প্রশাসক।

বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবহৃত যেসকল যান-যন্ত্রপাতি রয়েছে তার শতভাগ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যান-যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আধুনিক কম্প্যাক্টর ট্রাক, হুক-লিফট ট্রাক ও অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যানবাহন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, আধুনিক ও কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং সুষ্ঠভাবে সংগ্রহের জন্য বর্জ্য বিন বিতরনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্লাস্টিক বিনের কার্যকারিতা যাচাই করার স্বার্থে ডিএনসিসি'র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রাথমিকভাবে ২৫০ পিস সবুজ এবং ২৫০ টি হলুদ মোট ৫০০ (পাঁচশত) টি বিন এবং ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) পিস পলিব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমিনবাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ‘‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ’’ তথা ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বর্জ্যের পরিমান হ্রাসকরণসহ পরিবেশবান্ধব আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। চুক্তি অনুযায়ী বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন প্রায় ৩০০০ টন সলিড ওয়েস্ট ব্যবহার করা হবে যা ইনসিনারেশন প্ল্যান্টে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন অনুযায়ী নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পোড়ানোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এজন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও CMEC এর বাংলাদেশের SPV কোম্পানী WTE Power Plant North Dhaka Private Limited এর মধ্যে Waste Supply Agreement (WSA) ও Land Use Agreement (LUA) স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এর কার্যক্রম খুব শিগ্রই চালু হবে।

মোঃ শফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধান ড্রেনসমূহ পরিষ্কার করা হবে এবং নির্বাচিত খালসমূহ থেকে ভাসমান বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য দ্রুত প্রধান ড্রেনগুলোর পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোকে বর্জ্যমুক্ত করা। এই লক্ষে ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিনি এসময় আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে নাগরিকদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান থাকবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা কেউ নির্ধারিত স্থান ছাড়া বিক্ষিপ্তভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলব না। জনগনের সহযোগিতায় “ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা” গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন