ঢাকায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে গুরুতর আহতাবস্থায় ৫ দিন আইসিইউতে থাকার পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সোহেলী ইসলাম সোমা (৪২)। নিহত সোমা পার্বতীপুর শহরের সাহেবপাড়া রেলওয়ে কলোনি এলাকার মৃত মাহাবুবুল ইসলাম বুলবুলের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমণ্ডি সেন্ট্রাল রোডে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন।
জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে গত ৬ই জুন রাতে পার্বতীপুর থেকে একটি নাইট কোচে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন সোমা। পরদিন ৭ই জুন ভোরে গাবতলী বাস টার্মিনালে নেমে বাসায় যান। বাসায় ফিরে রেডি হয়ে দ্রুত অফিসে যাওয়ার তাড়া ছিল তার। তাই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে একটি অটোরিকশায় রওনা দেন। রিকশাটি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিকট পৌঁছলে ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা সোমার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ব্যাগ ধরে টান দিলে তিনি রাস্তার পাশে থাকা ডিভাইডারের ওপর পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করে তাকে লাইফ সাপোর্টে (আইসিইউ) রাখা হয়। সেখানে পাঁচদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার ভোরে সোমা মারা যান। তার নানার বাড়ি ঈশ্বরদীতে শহরে এনে বিকালে দাফন করা হয়।
নিহতের ফুপাতো ভাই সরোয়ার পারভেজ সবুজ জানান, সোমার বাবা-মা অনেক আগেই মারা গেছেন। তার কোনো ভাইবোনও নেই। একমাত্র মেয়ে নওমী ইসলাম ঢাকার একটি কলেজে অনার্সে পড়াশোনা করছেন। মায়ের চাকরির আয়ে তার লেখাপড়ার খরচ চলতো। তিনি বলেন, সোমার অকাল মৃত্যুতে তার মেয়েটি এখন পুরোপুরি এতিম হয়ে গেল।

Afzalur
৫ দিন আগেঅত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, সকলের জন্য লজ্জার বিষয়। প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, তারপর ন্যাশনাল নিউরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং অবশেষে একটি বেসরকারি হাসপাতাল—এই সবই ঘটেছে এই হতভাগ্য দেশের বৃহত্তম ও রাজধানী শহরে!!!! যদি একজন গুরুতর অসুস্থ রোগীর চূড়ান্ত গন্তব্য একটি বেসরকারি হাসপাতাল হয়!! তাহলে আমাদের তথাকথিত বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতাল এবং সরকারি মেডিকেল কলেজের কোনো প্রয়োজন নেই, আমরা আমাদের টাকা একটি নির্বোধ শ্বেতহস্তীর পেছনে খরচ করতে পারি না। ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের সকল কাপুরুষ/মেরুদণ্ডহীন/লোভী/অসৎ নীতি নির্ধারকদের জন্য লজ্জা। বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়াই তাদের গন্তব্য হওয়া উচিত