জাতীয় বাজেট প্রস্তাবে বহুল প্রত্যাশিত ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি কর্ড লাইন রেলপথ নির্মাণের ঘোষণা আসার পর কুমিল্লাজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের এ প্রাণের দাবির স্বীকৃতি পাওয়ায় কুমিল্লা সদর, সদর দক্ষিণ উপজেলা ও কুমিল্লা মহানগর দক্ষিণ থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি কর্ড লাইন শুধু একটি রেল প্রকল্প নয়; এটি কুমিল্লাসহ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও ন্যায্য অধিকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৮০ কিলোমিটার রেলপথের দূরত্ব কমে আসবে, যাত্রার সময় হ্রাস পাবে চট্টগ্রামসহ ঢাকা ও কুমিল্লার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
এ অঞ্চলের মানুষের দাবিকে সামনে রেখে দীর্ঘ বছর ধরে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মনিরুল হক চৌধুরী বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাজপথের সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, মতবিনিময় সভা এবং বিভিন্ন মহলে তিনি বারবার ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি কর্ড লাইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তার এ ধারাবাহিক আন্দোলন ও প্রচেষ্টার ফলে আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার একাধিক সামাজিক সংগঠক বলেন, “ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন ছিল কুমিল্লাবাসীর প্রাণের দাবি। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু যাতায়াত সহজ হবে না, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও শিল্পখাতেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
মানবাধিকার কর্মী আবুল বাশার বলেন, “কুমিল্লা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চল। সরাসরি কর্ড লাইন চালু হলে পণ্য পরিবহন ব্যয় কমবে, সময় বাঁচবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।”
স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতে, রাজধানী ও কুমিল্লার মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে। একই সঙ্গে কুমিল্লাকে কেন্দ্র করে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ সময় উপস্থিত বিএনপির নেতৃবৃন্দ ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি কর্ড লাইনের ঘোষণা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মনিরুল হক চৌধুরীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তারা বলেন, “দীর্ঘদিনের আন্দোলন, জনদাবি ও গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে এ ঘোষণার মাধ্যমে। এখন কুমিল্লাবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা—প্রকল্পটির দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন।”
ঘোষণার খবরে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সমগ্র কুমিল্লাজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ- উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়েছে।
