দাম বাড়বে

ফন্ট সাইজ:

প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্ক ও কর বাড়ানোর প্রস্তাব করায় বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেট, নিকোটিনজাত পণ্য, গাড়ি, আমদানি করা খাদ্যপণ্য, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের উপর শুল্ক ও কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রস্তাব কার্যকর হলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-

সিগারেট: সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য নিম্নস্তরের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ শলাকা ৬২ টাকা, মধ্যম স্তর ৯২ টাকা, উচ্চ স্তর ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তর ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতে সিগারেটের দাম বাড়বে। নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচকে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী এর উপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছেন।

তেলচালিত গাড়ি: পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ডিজেল, অকটেন বা পেট্রোলচালিত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে মধ্যম সারির ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির (ইঞ্জিনক্ষমতা) ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনবিশিষ্ট আমদানি করা গাড়ির উপর করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। ফলে এসব গাড়ির দাম বাড়বে।

বিদেশি কাজুবাদাম: দেশীয় চাষ ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য অপ্রক্রিয়াজাত ও প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক যথাক্রমে ১ শতাংশ ও ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। তবে দেশে উৎপাদকদের জন্য অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে বিদেশি কাজুবাদামের দাম বাড়বে।

বিদেশি পাঙাশের ফিলে: দেশীয় মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানি করা পাঙাশ মাছের ফিলের উপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ হয়েছে।

বিদেশি গ্যাস সিলিন্ডার: কম্পোজিট এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডার আমদানিতে আমদানি পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) আরোপ করা হয়েছে। এতে এর দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিদেশি মধু: বিদেশ থেকে প্রাকৃতিক মধু আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ইউনিটপ্রতি ২ ডলার বাড়িয়ে ৭ ডলার করা হয়েছে। এতে এই মধু আমদানিতে শুল্ককর বেশি দিতে হবে, যা দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিদেশি সুপারি: বিদেশ থেকে সুপারি আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ইউনিটপ্রতি দশমিক ২৫ ডলার বাড়ানো হয়েছে। এতে এই সুপারি আমদানিতে শুল্ককর বেশি দিতে হবে।

বিদেশি খাদ্য: সুগার কনফেকশনারি, কফি, তৈরি খাবার ইত্যাদি আমদানিতে বিভিন্ন হারে শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এতে এসব খাদ্য আমদানিতে শুল্ককরের চাপ বাড়বে।

বিদেশি লিপ লাইনার ও জেল: লিপ লাইনার, লিপ জেল ও সমজাতীয় পণ্য আমদানির শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে।
রড: রড তৈরির বিভিন্ন উপকরণের উপর ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। এতে রডের দাম বাড়তে পারে।

বাইসাইকেল: স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ ‘ফ্রি হুইল’ আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং একইসঙ্গে নতুন করে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে দাম বাড়বে বাইসাইকেলের।

ট্রান্সফরমার: ১ কেভিএ পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং একইসঙ্গে নতুন করে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে ট্রান্সফরমারেরও দাম বাড়বে।

ওয়াশিং মেশিন: স্থানীয় ওয়াশিং মেশিন উৎপাদনকারী শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে সকল প্রকার হাউজহোল্ড টাইপ ওয়াশিং মেশিন আমদানিতে নতুন করে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে শুল্ককর ও শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানোর কারণে বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার ও বেসিন, বিদেশি ফোম, বিদেশি মাইক্রোওয়েভ ওভেন, খেলনা ইত্যাদির দাম বাড়তে পারে।

ট্যাগসমূহ:

Abul Kashem

১ দিন আগে

নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়লে ঘর বাড়ি তৈরির খরচ বৃদ্ধি পাবে। ফলে মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই দুরূহ হবে। এটা মানুষকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দেবে। আমরা জানি বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই মানুষের বসবাসের ব্যয় কমানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

মন্তব্য করুন