খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘোষিত বিশেষ যৌথ অভিযান চলাকালে আবারো হত্যাকাণ্ড। খুলনার দক্ষিণ লবণচরা এলাকায় রফিক গাজী (৪৫) ওরফে ঢাকাইয়া রফিক নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লবণচরার দশগেট এলাকায় নিজ বাসার অদূরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রফিক দক্ষিণ লবণচরা মাথাভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ও রতন গাজীর ছেলে। তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত ছিলেন।
রফিকের বড় ছেলে অভিমানে কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। শুক্রবার সকালে ছেলেকে খুঁজতে বের হন রফিক। একপর্যায়ে তাকে না পেয়ে বাড়ির পেছনের একটি ফাঁকা স্থানে বসে ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার তলপেটে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এলাকাবাসী একটি সূত্র জানান, খুলনার সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সঙ্গে নিহত রফিকের ছেলের ওঠাবসা ছিল। যা নিয়ে প্রতিপক্ষ আলোচিত গ্রেনেড বাবু গ্রুপ স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারেনি। হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাদের হাত থাকতে পারে।
খবর পেয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যার কারণ, পূর্বশত্রুতা কিংবা রাজনৈতিক কোনো বিরোধ এ ঘটনার পেছনে রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। ঘটনাস্থলের আশপাশের সব দোকান বন্ধ। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কেউ কোনো তথ্য দিতে চাইছে না। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে কেএমপি’র সহকারী কমিশনার (সিটিএসবি) মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) রেজাউর রহমান বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার পর লবণচরা থানার প্রত্যন্ত এলাকার একটি বাজারে রফিকুল ইসলাম বসে ছিলেন। একটি মোটরসাইকেলে এসে হেলমেট পরা এক দুর্বৃত্ত তার তলপেটে গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ রেজাউর রহমান আরও বলেন, ‘নিহত রফিকুল ইসলাম বেশির ভাগ সময় ঢাকায় থাকতেন। মাঝেমধ্যে এলাকায় আসতেন। তার রাজনৈতিক পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে তিনি পাথরের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দুর্বৃত্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে।’
খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, রফিক গাজী
ছিলেন বিএনপি’র একজন পরীক্ষিত সৈনিক। বিগত ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে সবসময় মিছিল মিটিংয়ে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। খুলনা মহানগরে বর্তমানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চলমান। এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে খুলনা নগরে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর এ নিয়ে সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আর বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
