পুঁজিবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তির সময় ‘টি+শূন্য’ করার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

ফন্ট সাইজ:

দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গভীর, স্বচ্ছ, বহুমাত্রিক ও আস্থাভিত্তিক করতে একগুচ্ছ সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- পুঁজিবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তির সময় বর্তমানের টি+২ থেকে ধাপে ধাপে কমিয়ে টি+০ পর্যায়ে নিয়ে আসা।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
এখন চালু থাকা ‘টি+টু’ পদ্ধতিতে কেনাবেচা হওয়া শেয়ার বা শেয়ার বিক্রির টাকা সংশ্লিষ্টদের কাছে যায় লেনদেন হওয়ার দুদিন পর। এটি কমে ‘টি+শূন্য’ হলে সেটা ওই দিনই সম্পন্ন হয়ে যাবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের পুঁজিবাজার আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ভালো এবং সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি সহজ করা হবে। এ লক্ষ্যে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং অনুমোদন ও পরিপালন-সংক্রান্ত অস্পষ্টতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়াকে সময়নির্ধারিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। আবেদন দাখিল, প্রয়োজনীয় দলিলপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, ফি পরিশোধ, সংশোধন ও অনুমোদনের ধাপ সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে ইস্যুকারী কোম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে পুঁজিবাজারে পেনশন তহবিল, বিমা প্রতিষ্ঠান, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি), মিউচুয়াল ফান্ড এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, কোম্পানি বন্ড বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পৌর বন্ড ইস্যুর ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প অর্থায়নে বন্ড, সুকুক, অবকাঠামো তহবিলসহ বিভিন্ন অর্থায়ন উপকরণের ব্যবহার বাড়ানো হবে।
পুঁজিবাজারের অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, ব্যাংক, ব্রোকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্যব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া দেশীয় কোম্পানিগুলোর জন্য আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জে ‘রিজিওনাল ডুয়াল লিস্টিং’র সম্ভাবনা যাচাই করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে নিরীক্ষক, মূল্যায়নকারী ও ইস্যু ম্যানেজারসহ পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য ‘প্রফেশনাল লাইয়াবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক’ এবং ‘লায়াবিলিটি ইন্স্যুরেন্স’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বৈধ বিদেশি বিনিয়োগের মুনাফা এবং নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ক্রয় করা শেয়ার বা সিকিউরিটিজ বিক্রির অর্থ প্রত্যাবাসন ও পুনঃবিনিয়োগের প্রক্রিয়া এক কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বাজেট বক্তব্যে ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন