নির্বাচনী ইশতেহারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটের সেøাগান হলো ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে জিডিপি’র ৫ শতাংশে উন্নীত করার পৃষ্ঠা কথাও জানানো হয়েছে। এই লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপি’র ১-০১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বিএনপি। প্রস্তাবিত বাজেটে ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ নীতির ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি কৌশলের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করা করা হয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাজেট বক্তব্যে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী।
নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতে বিস্তৃত সংস্কারের কথা বলেছে বিএনপি। এ ছাড়া নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপি‘র ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ওদিকে ইশতেহারে সামাজিক নিরাপত্তা বিস্তৃত সংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটেও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারি ব্যয়কে আরো লক্ষ্যভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করতে কাঠামোগত সংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো এমনভাবে পুনর্বিন্যাস করা হবে যাতে প্রকৃত দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সরাসরি উপকৃত হয় এবং সম্পদের অপচয় কমে। সরকারি ক্রয়, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও বাজেট বাস্তবায়নে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হবে, যাতে ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে সরকারি ব্যয়কে অধিকতর ফলাফলভিত্তিক করা হবে। এর মাধ্যমে সরকারি ব্যয় শুধু তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাবে না, বরং একটি উৎপাদনশীল ও টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে ইশতেহারে আওয়ামী লীগের শাসনামলে পুঁজিবাজারে সংঘটিত অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির তদন্তসহ বিভিন্ন জনমুখী ইস্যুকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খাতে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করার কথা জানিয়েছে। এ লক্ষ্যে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে এবং এর প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ওদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে কৃষ কার্ড বাবদ ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে কৃষি বীমা চালুর কথাও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ক্রীড়া, যোগাযোগ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানীসহ নির্বাচনের ইশতেহারের বিভিন্ন বিষয়কে প্রস্তাবিত বাজেটে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, কাক্সিক্ষত রাষ্ট্র গঠনের মূল চালিকা শক্তি অর্থাৎ অর্থনৈতিক ইঞ্জিন বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ক্রমেই দুর্বল হতে হতে একেবারে ধ্বংস হয়েছে। আমরা সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই নতুন যাত্রার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চাইছি। নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা-গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সুযোগের বিস্তারের ওপর জোর দিয়ে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার রূপরেখা উপস্থাপন করেছিলাম। সরকার গঠনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সে লক্ষ্যে আমরা ইতিমধ্যে কাজও শুরু করেছি।
