রাজধানীর মগবাজারস্থ আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) স্বাক্ষরিত এক অফিসিয়াল চিঠিতে লাইসেন্স বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বৃহস্পতিবার এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলেও অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আইনি সুযোগ রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
এদিকে লাইসেন্স বাতিলের পর যাতে হাসপাতালের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ মহাপরিদর্শককে চিঠি দেয়া হয়েছে। গতকাল বিকালে লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পর থেকে হাসপাতালের প্রতিটি গেইটে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করেছে। গত ২৭শে মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যু হয়। এক বা দু’দিন বয়সী এসব নবজাতক পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। এ হৃদয়বিদারক ঘটনার পর দেশ জুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনা তদন্তে ‘দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর ১১ (১) ধারা অনুযায়ী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের চরম অবহেলার চিত্র উঠে এলে গত ৪ঠা জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ‘লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না’ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।
প্রথমে ৭ই জুন বিকাল ৫টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পর সময়সীমা ৯ই জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে ৯ই জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে লিখিত জবাব ও ব্যাখ্যা দেয়, তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের ১১ (২) (খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
এদিকে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতক হারানো প্রতিটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা, উপযুক্ত সদস্যদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং যোগ্যতা অনুযায়ী আদ্-দ্বীন গ্রুপে চাকরি দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
