কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ধোড়করা বাজারে চাঞ্চল্যকর সিএনজি অটোরিকশাচালক মো. হৃদয় (২৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগায় ঘটনার সূত্রপাত হলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ত্রিভুজ প্রেমের জেরে হৃদয়কে বুধবার রাতে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত হৃদয় উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্লাহ হেদুর ছোট ছেলে। আটককৃতরা হলো- চিওড়া ইউনিয়নের ঘোষতল গ্রামের নজির আহাম্মদের পুত্র নুরুল আমিন পানসি, আফতাব উদ্দিন খন্দকারের ছেলে তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত এবং জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের গাংরা গ্রামের মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে জসিম উদ্দিন।
নিহত হৃদয়ের ভাই মো. ফারুকের দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়, চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের শাহাদাত হোসেন আসিফ, আবদুল্লাহ জনি ও মো. নয়ন মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে বুধবার রাত ৮টায় ধোড়করা বাজারের পূর্ব পাশে জনৈক কাইয়ুমের তেলের দোকানে যায়। মুহূর্তেই ঘোষতল গ্রামের প্রান্ত, রাশেদ ও নজির আহমেদ অন্য মোটরসাইকেল নিয়ে বিপরীত থেকে এসে জনিদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ঝামেলা মিটিয়ে দিলেও প্রান্ত গ্রুপ আসিফ গ্রুপদের প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি দিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে সিএনজিচালক মো. হৃদয় এসে ঘটনার বিস্তারিত শুনে।
একপর্যায়ে ঘোষতল গ্রামের রাজীব, পানসি ও ডিমাতলী গ্রামের বিজয় প্রকাশ রিফাত মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহাদাত হোসেন আসিফ ও আবদুল্লাহ জনিকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। তখন সিএনজি অটোরিকশাচালক মো. হৃদয় হামলাকারীদের কবল থেকে আসিফ ও জনিকে রক্ষার চেষ্টা করলে মো. রাজীব তার কোমর থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করে স্বজোরে হৃদয়ের বুকের ডান পাশে পাজরের নিচে ছুরিকাঘাত করে। এতে সে রাস্তার উপর লুটিয়ে পড়ে।
অবস্থা বেগতিক দেখে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়। উপস্থিত লোকজন হৃদয়কে ধোড়করা বাজারে অবস্থিত রেক্স ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে নিয়া গেলে চিকিৎসক হৃদয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়ার পরামশ দেন। পরবর্তীতে হৃদয়কে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় রিয়া নামের এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে আলামিন হোসেন রাকিব ও তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত নামে দুই যুবকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রিয়ার স্বামী প্রবাসে থাকে। কিছুদিন ধরে রিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রান্তকে দায়ী করে রাকিব। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। প্রাথমিক তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিয়া নামের ওই নারীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
